Breaking News:


শিরোনাম :
সাত অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, রয়েছে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা বিনিয়োগ বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মমতা ও শুভেন্দুর মোবাইল বাজেয়াপ্ত সুনামগঞ্জে বাসের ধাক্কায় বাবা-মেয়েসহ নিহত ৫ মঙ্গলবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারাদেশে হাম ও উপসর্গে এক দিনে সর্বাধিক ১৭ শিশুর মৃত্যু ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ১৭৮ আসনে এগিয়ে বিজেপি, তৃণমূল ১১৩ আসনে নতুন ই-বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়িচাপায় নিহত অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি

আফগানিস্তানে দফায় দফায় ভূমিকম্প: প্রাণহানি বেড়ে ২২০০

  • ১১:২৯ এএম, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা তৃতীয় দফা ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের মৃত্যুর পর আবারও শক্তিশালী কম্পনে কেঁপে উঠেছে আফগানিস্তান।

বৃহস্পতিবার ৪ সেপ্টেম্বর ৬ দশমিক ২ মাত্রার এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

জার্মানির ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিএফজেড) জানিয়েছে, নতুন ভূমিকম্পটি মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নাঙ্গারহার সীমান্তবর্তী শিওয়া জেলা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বারকাশকোট, কুনার ও নাঙ্গারহার অঞ্চল। ইসলামিক রিলিফ জানিয়েছে, কুনারের কিছু গ্রামে প্রায় ৯৮ শতাংশ ভবন ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার চলছে।

ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এটি ভারতের দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মির এবং আশপাশের অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। কম্পনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সেখানকার বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে যান। ভারতে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো হতাহতের তথ্য জানা যায়নি।

গত চারদিন আগের ভূমিকম্পে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৬০০ জন। ভূমিকম্পে কয়েকটি গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িঘর ধসে পড়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ খোলাস্থানে থাকছেন।

স্থানীয়রা বাঁশের খাটিয়ায় লাশ বহন করছেন, কেউ শাবল হাতে মাটিতে কবর খুঁড়ছেন। নিয়মিত আফটারশক ও বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়া মাটির কারণে বেঁচে যাওয়া পরিবারগুলো ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না, গাছতলায় আশ্রয় নিচ্ছেন।

জাতিসংঘ বলছে, খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭০০টির বেশি ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, তাদের মজুদ চার সপ্তাহের বেশি চলবে না। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৩০ লাখ ডলারের তহবিল ঘাটতির কথা জানিয়েছে।

তালেবান প্রশাসন জানায়, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে সেনা হেলিকপ্টার ও প্যারাশুট ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তালেবানের নারী নীতি ও বিদেশি ত্রাণকর্মীদের ওপর বিধিনিষেধ আফগানিস্তানকে বৈশ্বিক সহায়তা থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন করছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের জাকোপো কারিদি বলেন, শুধু জরুরি সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও নিতে হবে। নইলে আফগানিস্তান এক সংকট থেকে আরেক সংকটে পড়বে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—আফগানিস্তানকে একা ফেলে রাখা যাবে না।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech