Breaking News:


শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ নয়টি অঞ্চলে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা: নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত ঢাকাকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী হরমুজে ৭২ ঘণ্টায় ৫২ বার মার্কিন অবরোধ ভাঙার দাবি ইরানের টঙ্গীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান: আটক ১০৭ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন জয়ী সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন হবে: আইনমন্ত্রী লিটারে ৪ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম, নতুন দর ১৯৯ টাকা প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বৈরী আবহাওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ

ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা

  • ১২:৪৮ পিএম, শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তজর্৭াতিক ডেস্ক।।
ইরানের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’-এ এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার ১৩মার্চ (স্থানীয় সময়) গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের জ্বালানি খাতের প্রাণকেন্দ্র এবং ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপে হামলার ঘটনায় বিশ্বব্যাপি জ্বালানি তেলের যে অস্তিরতা তা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়নি। তবে, বিশেষজ্ঞদের দাবি, তার এই দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হিরস আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘খারগ দ্বীপ খুবই ছোট। সেখানে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তেল রপ্তানি অবকাঠামো অক্ষত রাখা প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্পের দাবি কল্পনা করা কঠিন। জেপি মরগানের এক নোট অনুযায়ী, ম্যানহাটনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আয়তনের এই দ্বীপে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানবে।’

শনিবার ভোরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প গর্ব করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খারগ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথে বাধা দেয়, তবে আমি দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।’

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরের ইরানের উপকূল থেকে ২৬ কিলোমিটার এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত ৫ বর্গমাইল আয়তনের খার্গ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের ‘প্রাণ’ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরল গ্যাসের চালান এই দ্বীপ থেকেই বহির্বিশ্বে যায়। কৌশলগতভাবেও এ দ্বীপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে খারগ দ্বীপে এই ভয়াবহ হামলার পর তেহরানে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব।

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন শুক্রবার রাতেই ইরানে সর্বোচ্চ হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুমকি দিয়েছিলেন।

প্রসংগত, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধের কারণে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল রপ্তানি বন্ধ আছে, তবে খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে ইরান তার জ্বালানি তেলের চালান বহির্বিশ্বে পাঠানো অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল ও তরল গ্যাসের চালান আসে, তার ১০ শতাংশ তেল ও ১২ শতাংশ তরল গ্যাস সরবরাহ করে ইরান। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যদি খার্গ দ্বীপের জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামোতে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়, তাহলে বর্তমান যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরান সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না।

সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech