।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্বর হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল।
রবিবার ২০ মার্চ আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
উল্লেখ্য, আজ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করছেন গাজাবাসীও। এর মধ্যেই ইসরায়েলি বর্বর হামলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দেইর আর বালাহার সেফ জোনেও বোমা হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলায় গাজায় কমপক্ষে ২০ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটেছে; যাদের বেশির ভাগই নারী এবং শিশু।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেখানে হেলিকপ্টার দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে শিশুসহ চারজন বেসামরিক নিহত হয়েছেন।
এই দিনে ঐতিহ্যগতভাবে ফিলিস্তিনিরা আনন্দ উদযাপন করে থাকলেও এ বছর একেবারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। গাজায় বোমা বিস্ফোরণ, কামানের গোলার শব্দের মাঝে ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার আর্তনাদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকায় সকালের দিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান থেকে গুলি চালানো হয়েছে।
আল জাজিরার এই সংবাদদাতা বলেন, হামলায় ফিলিস্তিনি একটি পরিবারের সকল সদস্যই প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ওই এলাকাটি ‘‘মানবিক নিরাপদ অঞ্চল’’ হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবারও ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে আরও ২৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ২৭৭ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আরও ৭০ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৫ জনে পৌঁছেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে শিশুরা এই দিনে নতুন পোশাক পরত তারা এখন ক্ষুধার্ত এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গাজার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নেই, উৎসবের কোনও খাবারও নেই। আজ ভোরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানকার বসতিগুলো ধ্বংস করে চলেছে।
ঈদের আনন্দ উদযাপনের জন্য সমবেশ হওয়ার পরিবর্তে লোকজন সকালের দিকে প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করেছেন।
আল জাজিরার সংবাদদাতা তারেক আবু আজজুম বলেন, আল-আকসা হাসপাতালের এক মর্গে আমি একজন ফিলিস্তিনি মাকে দেখেছি, যিনি বাবাকে বিদায় জানাতে নিজের মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। ওই ব্যক্তি শনিবার ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন চলছে। প্রায় দেড় বছর সময় ধরে ইসরায়েলিরা গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে গাজাবাসী দুটি ঈদ পালন করেছেন। সেই দিনগুলোতেও ইসরায়েলিরা গাজায় বর্বর তাণ্ডব চালিয়েছে।