।।বিকে রিপোর্ট।।
দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনাজপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে আগত লাখ লাখ মুসল্লি এখানে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।
সোমবার ৩১ মার্চ সকাল ৯টায় ঈদের প্রথম নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
২৩ একর জমি নিয়ে বিস্তৃত গোর-এ-শহীদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায়ের জন্য সারা দেশ থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে ইবাদতের ব্যবস্থা করতে নানা ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ। লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদ জামাত রূপ নেয় মিলনমেলায়।
জানা যায়, ওযু, যানবাহন রাখার ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম, খাবার পানিসহ ১৪৫টি মাইক রাখা হয়। ছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে বৈদ্যুতিক লাইটিং করা হয়।
অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের মতে, দেশের সবচেয়ে বড় মাঠে নামাজ পড়তে এসে খুব আনন্দ লাগছে। প্রতি বছর আমরা এই বড় মাঠে নামাজ আদায় করি। একসঙ্গে এত মুসল্লি নামাজ পড়া সত্যি আনন্দের। আমাদের দাদারা নামাজ পড়েছিলেন। এখন আমরা নামাজ পড়ছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশংসার দাবিদার।
নামাজ শেষে দেশে শান্তি শৃঙ্খলা সঠিকভাবে চলার জন্য মহান আল্লাহ্র কাছে দোয়া করা হয়। দেশে যাতে কোনো প্রকার নৈরাজ্য সৃষ্টি না হয়। মানুষে মানুষে হানাহানি, বিবাদ না হয়। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই ঈদুল ফিতরের নামাজের পর সারা দেশে শান্তি কামনা ও ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দিনাজপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গোর-এ-শহীদ দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করলাম। শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমরা আগে থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছি, যাতে মুসিল্লারা সঠিকভাবে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন।
রংপুর বিভাগের আটটি জেলার মুসল্লিরা এখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে আসেন। এছাড়াও অন্য বিভাগের মানুষরাও আসে। এবার লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম ঘটে এই মাঠে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকে এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে বৃহত্তর আকারে ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর এখনে নামাজ আদায় করেন দিনাজপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এবার সমবেত হন প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লি।