Breaking News:


চীনা পণ্যে নজিরবিহীন ২৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

  • আপলোড টাইম : ১২:১৪ পিএম, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৩৫ Time View
ছবি: সংগৃহিত, প্রতীকি

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
চীনা পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কের জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর চীনের পাল্টা শুল্ক আরোপের পাল্টাপাল্টিকে নাখোশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার নজিরবিহীন ২৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন।

বুধবার ১৬ এপ্রিল  হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতি সূত্রে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে চীন থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর এখন সর্বোচ্চ ২৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সময় বুধবার নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। গত মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি তথ্যপত্রে বলা হয়, চীনা পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৪৫% শুল্ক আরোপের সম্মুখীন হতে হবে, যা পূর্বে রিপোর্ট করা ১৪৫% সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে অনেক বেশি।

এই হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ১২৫ শতাংশ প্রতিশোধমূলক শুল্ক, তার সঙ্গে ফেন্টানিল সম্পর্কিত ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক এবং “সেকশন ৩০১” আওতাধীন বাড়তি শুল্ক মিলিয়ে সর্বমোট শুল্কহার ২৪৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে।

হোয়াইট হাউস জানায়, চীনের পাল্টা পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ২৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করছে। এই পদক্ষেপকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট ট্রেড পলিসি’র অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর আরও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, চীন ইচ্ছাকৃতভাবে গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়াম ও অ্যান্টিমনির মতো উচ্চ প্রযুক্তি উপকরণ—যা সামরিক, মহাকাশ এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গুরুত্বপূর্ণ—এর সরবরাহ সীমিত করছে।

সম্প্রতি চীন ছয়টি ভারী বিরল মৃত্তিকা ধাতু ও বিরল মৃত্তিকা চুম্বকের রপ্তানি স্থগিত করেছে, যা বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে তাদের প্রভাব আরও জোরদার করছে। এর ফলে গাড়ি প্রস্তুতকারক, মহাকাশ নির্মাতা এবং সামরিক ঠিকাদারদের উপর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্য আলোচনার জন্য এখন চীনের এগিয়ে আসা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রের নয়। তার ভাষায়, চীনের কোর্টেই এখন বল। তাদেরই আমাদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। আমাদের চীনকে কিছু দিতে হবে না।

ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট তার পক্ষ থেকে এই বিবৃতি পড়ে শোনান। এতে আরও বলা হয়, “চীন আর অন্য দেশের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই, শুধু তারা আকারে বড় এবং আমাদের যা আছে—তা চায়।”

উল্লেখ্য, আমেরিকা ফার্স্ট, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প। সেই নীতির অংশ হিসেবেই চীনসহ একাধিক দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

এছাড়া, কৌশলগত পণ্যের আমদানি নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশি উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech