।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
চীনের শানডং প্রদেশের ওয়েইফাং শহরে একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত এবং আরও ৬ জন এখনো নিখোঁজ বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার ২৭ মে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার সূত্রে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে শানডং ইউদাও কেমিক্যাল কোম্পানির পরিচালিত একটি প্ল্যান্টে বিস্ফোরণটি ঘটে। প্ল্যান্টটি মূলত কীটনাশক ও ওষুধ তৈরির জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান উৎপাদন করে থাকে।
চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং রয়টার্স দ্বারা যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের সময় আকাশে বিশাল কালো ও কমলা ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং আশপাশের ভবনের জানালাগুলো ভেঙে পড়ছে।
একটি ভিডিওতে একজন বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের প্রভাবে ৭ কিলোমিটার দূরে তার ঘর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।
ঘটনার পরপরই জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে ২৩০ জনেরও বেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ এখনো চলমান।
ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণস্থলের পাশের আরও একটি অজ্ঞাত স্থাপনা থেকেও ধোঁয়া বের হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইউদাও কেমিক্যাল কোম্পানিটি ২০১৯ সালে গাওমি রেনহে কেমিক্যাল পার্কে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪৭ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত এই প্ল্যান্টে ৩০০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করেন।
দেশটির জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিস্ফোরণের পর ২০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম দ্য বেইজিং নিউজে প্রকাশিত ড্রোন ভিডিওতে দেখা যায়, ইউদাও কেমিক্যাল প্ল্যান্ট এবং তার পাশের অজ্ঞাত একটি স্থাপনায় ধোঁয়া উড়ছে।
ইউদাওয়ের ওয়েইফাং ইকোলজিক্যাল এনভায়রনমেন্ট ব্যুরো বলেছে, বিস্ফোরণের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নমুনা পরীক্ষার কোনও ফল পাওয়া যায়নি। এদিকে, বেইজিং নিউজ বলেছে, এনভায়রনমেন্ট ব্যুরো সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে চীনের বিভিন্ন রাসায়নিক কারখানায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নিংশিয়া এবং ২০২৩ সালে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জিয়াংশি প্রদেশে পৃথক দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।
এর আগে, ২০১৫ সালে তিয়ানজিন শহরের একটি বন্দরে বিপজ্জনক ও দাহ্য রাসায়নিক ভর্তি দুটি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৭০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিস্ফোরণে আহত হন আরও ৭০০ জনের বেশি মানুষ। বিস্ফোরণের এই ঘটনার পর দেশটির সরকার রাসায়নিক মজুদ সংশ্লিষ্ট আইন কঠোর করে।
সূত্র: রয়টার্স