।।বিকে ডেস্ক রিপোর্ট।।
চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলী খেলায় দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার মো. শরীফ। উল্লেখ্য, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা শরীফ স্থানীয়দের কাছে ‘বাঘা শরীফ’ নামে পরিচিত।
শুক্রবার ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত বলীখেলার ফাইনাল খেলায় তিনি একই এলাকার রাশেদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন
আজ ফাইনাল মুখোমুখি হন শরীফ ও রাশেদ। ৩১ মিনিটের এই খেলায় কেউ কাউকে ছাড় দেননি। একপর্যায়ে দুজনের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে দেন বলীখেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার। তিনি রিংয়ে উঠে মাইকে ঘোষণা দেন, একজনকে জিততেই হবে।
৩১ মিনিটে এসে শরীফ রাশেদকে ঝাপটে ধরে ফেলে দিতে উদ্যত হন। তখন রাশেদ নিজেকে রক্ষা করতে রিংয়ের রশি ধরে রাখেন। রেফারিরা এই কৌশলকে অবৈধ ঘোষণা করে শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। শরীফ পেশায় মাংস বিক্রেতা। রাশেদের মুরগির খামার রয়েছে।
গতবছর জব্বারের বলী খেলায় প্রথমবার অংশ নিয়েই তিনি বাজিমাত করেন। রানার্সআপও হন রাশেদ।
এ বছর প্রথম রাউন্ডে ৮০ জন অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রথম রাউন্ডের চারজন ও আগের বছরের শীর্ষ চারজন নিয়ে হয় চ্যালেঞ্জ রাউন্ড। চ্যালেঞ্জ রাউন্ডে চট্টগ্রামের কাঞ্চনকে হারিয়ে কুমিল্লার কামাল, নিজ জেলা কুমিল্লার দিপুকে হারিয়ে শরীফ, সীতাকুণ্ডের রাসেলকে হারিয়ে ১১৪তম আসরের সেরা কুমিল্লার শাহজালাল ও রাঙামাটির রুবেলকে হারিয়ে কুমিল্লার রাশেদ সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন।
সেমিফাইনালে শরীফ নিজ জেলার কামালকে হারিয়ে ও রাশেদ তার অগ্রজ শাহজালালকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেন।
এর আগে বিকেল ৪টা থেকে রিংয়ে বলীখেলা শুরু হয়। বিকেলে বেলুন উড়িয়ে বলীখেলার উদ্বোধন করেন নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ। পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বলীখেলার শুরু থেকে লালদীঘির মাঠ এবং আশপাশ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ঢোলের বাদন ছাপিয়ে গগন কাঁপানো হর্ষধ্বনি তোলেন উপস্থিত নানা বয়সী মানুষ। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে তাঁরা বলীখেলা উপভোগ করতে থাকেন। বলীখেলায় ১৮ বছর বয়সী ফয়সাল যেমন ছিলেন, তেমনি সত্তোরোর্ধ্ব মফিজ উদ্দিনও ছিলেন। ছিলেন ব্যবসায়ী, ছাত্র, চাকরিজীবীরাও।
চট্টগ্রাম শহরের বদর পাতির ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে ১৯০৯ সালের ১২ বৈশাখ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আয়োজন করেন কুস্তির, যা বলী খেলা নামে পরিচিত।
বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১২ বৈশাখ চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে জব্বারের বলী খেলা হয় প্রতিবছর। খেলার আগের দিন ও পরের দিন মিলিয়ে মোট তিন দিন হয় বৈশাখী মেলা।
বলী খেলাকে ঘিরে এ বৈশাখী মেলার জন্য অপেক্ষায় থাকেন চট্টগ্রামবাসী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দোকানিরা নানা ধরনের মালামাল নিয়ে আসেন এ মেলায়।
মাটির তৈরি তৈজসপত্র, খেলনা, ফুলদানি, পুতুল, বেত-কাঠ ও বাঁশের তৈরি আসবাব, হাতপাখা, মাছ ধরার পলো, বেতের তৈরি ডালা, কুলো, ফলদ ও বনজ গাছের চারা, ফুল গাছের চারা, মুড়ি মুড়কি, পাটি, মাদুর, চুড়ি, প্রসাধনী সামগ্রী, দা-বটি, ছুরিসহ প্রায় সব পণ্যই পাওয়া যায় এ মেলায়। মেলা ঘিরে নিয়ে শিশুদেরও আনন্দের কমতি থাকে না। সংকলিত।।