।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভারী বজ্রবৃষ্টিতে অন্তত ১৩ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯২ জন। এছাড়া ঝড়ের কারণে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ও পুরোনো দালান ক্ষতিগ্রস্ত
রবিবার ২৫ মে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঞ্জাবের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় নাগরিকদের উচ্চ সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছে।
পিডিএমএর এক বিবৃতিতে বলা হয়, পিডিএমএর মহাপরিচালক (ডিজি) ইরফান আলী কাতিয়া পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিপাতের খবরের মধ্যে প্রদেশজুড়ে জেলা প্রশাসক এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং সব জেলা জরুরি অপারেশন কেন্দ্রগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে।বিবৃতিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ঝুলন্ত তার থেকে নাগরিকদের সতর্ক ও দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, ‘বজ্রপাত এড়াতে নিরাপদ স্থানে থাকুন। খারাপ আবহাওয়া এবং বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় থাকবেন না। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন এবং ধীরে গাড়ি চালান।’
এদিকে পাঞ্জাবের পাশাপাশি লাহোর, সিয়ালকোট, রাওয়ালপিন্ডি, শেখুপুরা ও ঝেলাম শহরে ধুলিঝড়ের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে স্থানীয় একটি কারখানার ছাদ ঝড়ো হাওয়ায় ভেঙে পড়লে একজন শ্রমিক নিহত হন এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি টেলিভিশন পাকিস্তান টেলিভিশন।
লাহোরে গাছপালা ও সোলার প্যানেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টি যা বাড়িয়ে দেয় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখোয়াতেও বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নদী-নালায় পানি বেড়ে যায়।
এছাড়া একজন ব্যক্তি বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন বলেও জানা গেছে। ঝড়ের কারণে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ও পুরোনো দালান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার পাঞ্জাবের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, ধুলিঝড় ও বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সব জেলায় জরুরি সেন্টার চালু করা হয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিং চলছে। নাগরিকদেরকে বিদ্যুতের খুঁটি ও দুর্বল ভবন থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২২ সালে নজিরবিহীন বন্যায় দেশটির ১,৭০০ মানুষ প্রাণ হারান, ৩৫০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়।