শিরোনাম :
আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: অর্থমন্ত্রী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় তাবলিগ জামায়তের আমির নিহত রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে হতাহত ১১ তিন মাসে ফের খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩২.৬২% সারাদেশে হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার শুরু: আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে ন্যায়বিচার চাইলেন রামিসার বাবা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ৫ আলোচনার মধ্যেই নতুন করে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র: পাল্টা হামলার মাধ্যমে ইরানের কঠোর জবাব আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই: জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা স্লোগান’, আটক ৭

যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, ইরানের স্পষ্ট বার্তা

  • ০১:১৬ পিএম, রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
ছবি: প্রতিকী

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরানে আবারও হামলা চালাতে পারে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরজন্য তারা এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শুক্রবার ১৫ মে (স্থানীয় সময়)মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দুজন কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসকে এ তথ্য জানান।

সংবাদমাধ্যমটিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়ছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানে আগের চেয়ে তীব্র বোমাবর্ষণ করা হবে। এতে টার্গেট করা হবে সামরিক ও অন্যান্য অবকাঠামো। এরসঙ্গে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখল করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ইরানের মূল ভূখণ্ডে কমান্ডো পাঠিয়ে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম নিয়ে আসা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

তবে ইউরেনিয়াম আনার বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। এতে অনেকে হতাহত হতে পারেন। এরসঙ্গে সহায়তাকারী বাহিনী হিসেবে কয়েক হাজার সেনাকে সেখানে উপস্থিত রাখতে হবে। যাদের সঙ্গে ইরানি সেনাদের সরাসরি লড়াই হতে পারে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ কে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধ অত্যাসন্ন এমনটি ধরে নিয়ে ইসরায়েল প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে আছেন। ট্রাম্প ইরানিদের সঙ্গে কীভাবে আলোচনা করবেন সেটির দিকে তারা নজর রাখছেন।

অজ্ঞাত এ কর্মকর্তা বলেছেন, আমেরিকানরা বুঝতে পেরেছে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো সমাধানই আসবে না। আমরা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও অনেক কিছু জানব।

এরআগে গত শুক্রবার চীন সফর থেকে দেশে ফেরার পথে ট্রাম্প জানান, ইরান যদি সত্যিকার অর্থে প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা ২০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ বন্ধ রাখবে তাহলে তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন। এরআগে ট্রাম্প শর্ত দিচ্ছিলেন, ইরানকে চিরজীবনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে ফিরতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন, চলমান উত্তেজনার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনেও পড়ছে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় শেষ পর্যন্ত আমেরিকানদেরই বহন করতে হবে। পোস্টের সঙ্গে তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির একটি চিত্রও যুক্ত করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই হয়ে থাকে।

আরাঘচি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ছাড়াও বড় চাপ আসবে তখন, যখন ঋণ ও গৃহঋণের সুদের হার বাড়তে থাকবে। ইতোমধ্যে গাড়ির ঋণ খেলাপির হার ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, যুদ্ধের হুমকি যতদিন থাকবে, ততদিন মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়বে এবং পরিস্থিতি মন্দার দিকে যেতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও একই প্রসঙ্গ তুলে ব্যঙ্গ করে বলেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে একটি ‘অভিনয়ধর্মী যুদ্ধ’ চালানো হচ্ছে, যা নতুন বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ডেকে আনতে পারে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পাঁচ শতাংশ সুদে বিক্রি করেছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম। পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়লে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় বড় অচলাবস্থার একটি বিষয় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান এই জলপথে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি চাইলেও উপসাগরীয় দেশগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে দাবি করছে।

ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী জাহাজগুলো সুবিধা পাবে এবং নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে।

সূত্র আলজাজিরা /নিউইয়র্ক টাইমস

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech