শিরোনাম :
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদির কাছে রায়ের কপি চেয়েছে বাংলা‌দেশ সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড: ছেলেকে হারিয়ে নিঃস্ব বাবা, শোকে প্রাণ গেল ফুফুর হামে ও এর উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ১২০০ ছাড়ালো প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন মুন্সীগঞ্জে জাল টাকা ছাপানোর সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেপ্তার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল’ স্লোগান দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ইশরাক আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ২২ জেলের কারাদণ্ড ইশরাকের পিস্তল উঁচিয়ে ধরার ঘটনা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ: জামায়াত

অভ্যুত্থানের পরও কেন আওয়ামী লীগের চক্রান্ত বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে- রাজা মিঞা

  • ০৮:২৫ পিএম, শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
আওয়ামী লীগ সরকার বিনা টেন্ডারে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং টার্মিনাল তুলে দেওয়ার আয়োজন সম্পন্ন করেছিল। অভ্যুত্থানের পরও কেন আওয়ামী লীগের চক্রান্ত বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাজা মিঞা।

শনিবার ২৫ অক্টোবর বেলা ১১টায় নগরীর আগ্রাবাদ মোড়ে শ্রমিক, ছাত্র, পেশাজীবী ও নাগরিকদের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে’ এই সমাবেশ ডাকা হয়।

গণমুক্তি ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিঞা বলেন,  আওয়ামী লীগ সরকার বিনা টেন্ডারে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে নিউমুরিং টার্মিনাল হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পরও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক লাভ আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি। তারপরও বিদেশি কোম্পানির মুনাফা নিশ্চিত করতে সরকার বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বাড়িয়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ারে নেই।

চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনক ও কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম। কিন্তু এর পরও বিদেশি কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদীদের এ অঞ্চল ঘিরে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিউমুরিং টার্মিনাল ও লালদিয়ার চর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।

বিনা প্রতিরোধে এ চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বন্দর এলাকায় এক মাসের জন্য সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের প্রধান বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িত। তাই বন্দর পরিচালনা বেসরকারি বা বিদেশি নয়, বরং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে সাম্রাজ্যবাদীদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলো বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ এসেছে সমাবেশ থেকে।

ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষায় আজ চট্টগ্রামের নাগরিক, শ্রমিক, পেশাজীবী ও ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি দিয়ে দেশবিরোধী এ তৎপরতা প্রতিহত করা হবে।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়ক রিজওয়ানুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার উপর লাভে আছে। তারপরও বিদেশি কোম্পানির হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার আগে তাদের মুনাফা নিশ্চিতের জন্য সরকার বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বাড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত জাতীয় সম্পদ বিদেশি কিংবা বেসরকারি কারো মাধ্যমে নয়, জাতীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালনা করতে হবে।

বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদ বলেন, একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বন্দরের টার্মিনাল লিজ দেওয়ার মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ও ন্যায্যতা নেই। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থানগত কারণে এর সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার কৌশলগত প্রশ্নও যুক্ত।

কিন্তু বর্তমান সরকার যেরকম তড়িঘড়ি ও কারও মতামতের তোয়াক্কা না করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে, তাতে প্রবল সন্দেহ ঘনীভূত হয়ে উঠেছে, সরকার কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে?

বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সেক্রেটারি ইব্রাহিম খোকন বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে একাধিক বন্দর নেই। দেশের সিংহভাগ আমদানি রপ্তানি যে বন্দর দিয়ে হয়, সেই বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে কেউ দেয় না।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডক শ্রমিক দলের সেক্রেটারি আখতারউদ্দিন সেলিম, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন সেক্রেটারি জাহিদউদ্দিন শাহীন, গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্রের মশিউর রহমান খান, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার পরিষদের প্রকৌশলী সিঞ্চন ভৌমিক, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সেক্রেটারি জাহেদুন্নবী কনক, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নেতা সাইফুর রুদ্র, বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সভাপতি হুমায়ুন কবির, আবদুল্লাহ আল মামুন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ধ্রুব বড়ুয়া ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নগর দফতর সম্পাদক লাবণী আকতার।

সমাবেশ থেকে জানানো হয়, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার উদ্যোগে আগামী ২৭ অক্টোবর ঢাকায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ এবং ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আহুত অনশন-ধর্মঘট কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানানো হবে।

সমাবেশ পরিচালনা করেন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সত্যজিৎ বিশ্বাস।

সমাবেশে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech