Breaking News:


আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

  • ১০:২২ এএম, শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ।
বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন।

৪৭ থেকে ৫২ হয়ে ৬৯’র সুদীর্ঘকালের আপসহীন আন্দোলনের মধ্যে ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। সে দিন লাখো মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

একাত্তরের ৭ মার্চ তার এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। এরপরই ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দেশের মুক্তিকামী মানুষ। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় মুক্তির লক্ষ্যে। মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণ। এই স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি তার ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের এই ভাষণকে ইতোমধ্যে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। এ ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গৌরব ও সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে দিবসটি পালনে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা আয়োজন করা হতো। এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিবসটি সামনে এসেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। দলটির সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান এবং বর্তমানে সে দেশেই অবস্থান করছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস উদযাপন বা পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

দিনটি প্রসঙ্গে বি.এন.পির স্বপ্নদ্রস্টা জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন “৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষনা আমাদের কাছে এক ‘গ্রীণ সিগন্যাল’ বলে মনে হলো। আমরা আমদের পরিকল্পনাকে চুড়ান্ত রুপ দিলাম। কিন্তু তৃতীয় কোন ব্যক্তি কে তা জানালাম না। বাঙালি ও পাকিস্তানি সৈনিকদের মাঝে উত্তেজনা ক্রমেই চরমে ওঠেছিল।” — সেই সব দিন (মুনতাসীর মামুন, পৃষ্ঠা ৩০, প্যারাগ্রাফ ৩)

এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঠিক একইভাবে ৭ মার্চ যে ভাষণ শেখ মুজিবুর রহমানের, সেটা অবশ্যই ইতিহাস। অবশ্যই তাঁর মর্যাদা তাঁকে দিতে হবে। তার অর্থ এই নয় যে আপনি যখন ৭ মার্চ পালন করবেন, তখন বলবেন ৭ মার্চের ডাকে সব হয়ে গিয়েছিল। সেটা কি না, তা আলোচনার মধ্যে আসবে, ইতিহাস থেকে আসবে, ইতিহাসের সমস্ত বই থেকে আসবে। কে বক্তৃতাতে ৭ মার্চে কী বলেছিলেন, পরবর্তীকালে ২ মার্চে কী বলেছিলেন, ৩ মার্চে কী বলেছিলেন, ৯ মার্চ মাওলানা ভাসানী কী বলেছিলেন পল্টন ময়দানে—এগুলো ইতিহাস। একই সঙ্গে ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে ঘোষণা জাতিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং সমগ্র জাতি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, এটাও ইতিহাস। সুতরাং এগুলো কোনোটাই অস্বীকার করা যাবে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কাউকেই খাটো করার কোনো রকম ইচ্ছা আমাদের নেই এবং আমরা বিশ্বাস করি সেটা উচিতও না। বিশেষ করে স্বাধীনতার ব্যাপারে প্রকৃত সত্য সবাইকে উদ্ঘাটিত করতে হবে।’

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech