।।বিকে স্পোর্টস।।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ঘরের মাঠে ইকুয়েডরকে ২–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলতে ওঠার লড়াইয়ে জয় পেয়েছে মেক্সিকো। চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নক আউট পর্বে নিজেদেরে টিকিয়ে রাখলো স্বাগতিকরা।
মঙ্গলবার ৩০ জুন (স্থানীয় সময়) আজতেকা স্টেডিয়ামে বজ্রপাতের কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে শুরু হয়। তবে এই বিলম্বে গ্যালারির উচ্ছ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি। হাজারো সমর্থকের প্রাণবন্ত সমর্থনে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো।
প্রথমার্ধে মাত্র নয় মিনিটের ব্যবধানে হুলিয়ান কিনিওনেস ও রাউল হিমেনেসের গোলে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই ধরে রেখে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে তারা।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে একই স্টেডিয়ামে বুলগেরিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে শেষবার নকআউট পর্ব পার করেছিল মেক্সিকো। ৪০ বছর পর আবারও একই মাঠে একই ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনল দলটি।
এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপে শেষ আটে ওঠার লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি মেক্সিকোর। তবে টানা সাতবার প্রথম নকআউট পর্বে বিদায় নেওয়ার হতাশার পর এই জয় তাদের জন্য বড় স্বস্তির।
শেষ আটে জায়গা করে নিতে আগামী রোববার একই স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড অথবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে মেক্সিকো।
নিজেদের মাঠে মেক্সিকোকে হারানো যে কতটা কঠিন, সেটিও আবার প্রমাণ হয়েছে এই ম্যাচে। আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ৮৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি হেরেছে তারা। জিতেছে ৭০টি ম্যাচ। এছাড়া মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ১০টি ম্যাচে এখনো অপরাজিত রয়েছে দলটি।
চলতি বিশ্বকাপে মেক্সিকোর অভিযানও দারুণ। প্রথম চার ম্যাচে একটিও গোল না খেয়ে জয় পাওয়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ দল হয়ে উঠেছে তারা।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরের জন্য এটি ছিল হতাশাজনক সমাপ্তি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জার্মানিকে হারিয়ে আলোড়ন তুললেও নকআউট পর্বে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি দলটি।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে নতুন নিয়ম ভঙ্গের দায়ে লাল কার্ড দেখেন ইকুয়েডরের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় পিয়েরো হিনকাপিয়ে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখার কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের দল নিয়েই ম্যাচ শেষ করে ইকুয়েডর।