।।বিকে রিপোর্ট।।
টানা ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে নিখোঁজ প্রায় ৮০ জনের সন্ধানে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারীরা।
রবিবার ২৫ জানুয়ারী আবারও এ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাতভর অভিযান স্থগিত রাখতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মিশন সমন্বয়কারী। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
উল্লেখ্য, শনিবার ২৪ জানুয়ারী ভোরে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার পশ্চিম বান্দুং এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভূমিধসটি নীচের একাধিক গ্রামে আঘাত হানে। এতে আবাসিক এলাকা মাটিচাপা পড়ে ও বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়।
শনিবার স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত নয় জন প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ৮০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তবে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা সাময়িক বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মিশন সমন্বয়কারী আদে দিয়ান পারমানা এক বিবৃতিতে জানান, টানা বৃষ্টির কারণে রাতের বেলা উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও নড়বড়ে মাটির কারণে উদ্ধারকাজ চালাতে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
পাসির লাঙ্গু গ্রামের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী দেদি কুর্নিয়াওয়ান বলেন, সাধারণত কাছের নদীর পানি বাড়লে ছোটখাটো বন্যা হয়। দুর্যোগ বলতে ঐ বন্যার প্রস্তুতি আমরা নিতেই পারি। কিন্ত পাহাড়ী বনাঞ্চল থেকে হঠাৎ করেই ভূমিধস হয়ে আলগা মাটি নেমে আসলো। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।
রাতের বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ কিছু সময় বন্ধ ছিল। রবিবার সকালে আবার কাজ শুরু হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা সনাতন পদ্ধতিতেই ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। তবে নিখোঁজদের খুঁজতে ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাটি এখনও দুর্বল থাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
পশ্চিম বান্দুংয়ের মেয়র সতর্ক করে বলেন, দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও অস্থিতিশীল মাটির কারণে উদ্ধার কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলাকার অবস্থা খুবই শোচনীয়। উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলা বর্ষা মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ দ্বীপপুঞ্জজুড়ে বন্যা ও ভূমিধস একটি নিয়মিত ঘটনা।
গত বছরের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র মৌসুমি বৃষ্টিতে সুমাত্রা দ্বীপে সংঘটিত বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল বলে সরকারি হিসাবে জানা গেছে।
পরিবেশবাদী, বিশেষজ্ঞ ও সরকার মনে করছে, বন উজাড়ের ফলে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত গ্রামগুলোতে ঢুকে পড়ে এসব বন্যা ও ভূমিধসের তীব্রতা বাড়িয়েছে।
সুমাত্রার ওই বন্যার পর সরকার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করে একাধিক মামলা দায়ের করে।
চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়ার সিয়াউ দ্বীপে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়।