।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
পারস্য উপসাগরের গোরুক ও কেশম দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর রাডার স্টেশনে মার্কিন বাহিনীর বোমাবর্ষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
শনিবার ৬ জুন আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি সংবাদমাধ্যশ তাসনিম নিউজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
আইআরজিসির বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে শত্রুদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে অ্যারোস্পেস ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।
আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকোম বলেছে, শনিবার ভোরের দিকে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে মোট ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। প্রত্যেকটিকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।
গত কাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতের দিকে হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ৪টি ইরানি ‘ওয়ান ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন ভূপাতিত করার পর সম্ভাব্য পরবর্তী হামলা রুখতে গোরুক ও কেশম দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে হামলা চালায় সেন্টকম।
ওয়াশিংটনের দাবি, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার পর পরবর্তী সম্ভাব্য হামলা রুখতে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলোতে যৌথ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন বাহিনীর এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনে আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তাসনিম নিউজ।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন পুরোপুরি স্থবির এবং যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি যখন আলোর মুখ দেখছিল না, ঠিক তখন আবার এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। মার্কিন-ইসরায়েলী অক্ষজোট সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে।
জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ইরানের এই পদক্ষেপের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাতের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।
কাগজে-কলমে সেই যুদ্ধবিরতি এখনও চললেও বাস্তবে তা চূড়ান্ত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। গত ২৮ মে থেকে প্রায় নিয়মিতই পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করছে আইআরজিসি এবং সেন্টকোম।
সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা