শিরোনাম :
কালিয়াকৈরে সিএনজি-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবীতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের লং মার্চ শুরু আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার উত্তরবঙ্গের প্রথম সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্র পাবনায়, মোবারকপুরে কূপ খনন ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের -ছয় সপ্তাহের মধ্যে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় রেকর্ড : ২ মাসে পণ্য পরিবহন ৪০০ টন জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে : হুমায়ুন কবির আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে, বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রশংসিত বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি

ককরোচ আন্দোলনে সমর্থন ও যোগ দেওয়ার ঘোষণা মমতার

  • ০১:২০ পিএম, বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ভারতে বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক নীতি ও ব্যবস্থার প্রতিবাদে তরুণ ও নাগরিক সমাজের ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) আন্দোলনকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একই সঙ্গে প্রয়োজনে তিনি নিজেও এই আন্দোলনে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার ২১ জৃলাই কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলে একুশে জুলাইয়ের (শহীদ দিবস) সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। এ খবর জানিয়েছে সংবাদ প্রতিদিন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আমি চাই পশ্চিমবঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের ব্যানারে সবাই একসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ুক। আমার কোনো অহংকার নেই। অন্যদেরও বলব, মতপার্থক্য ভুলে একসঙ্গে লড়াই করুন। প্রয়োজনে আমি ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও যোগ দেব।

মমতা বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজ্যের বিরোধী দলগুলোকে সব মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দলত্যাগীদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ আর কখনো দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাসঘাতকদের চ্যালেঞ্জ করছি, সরাসরি বিজেপিতে গিয়ে নির্বাচনে লড়ুন।’ বিদ্রোহীদের বিজেপির ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘বিজেপির পাশবালিশ হয়ে থাকার দরকার নেই। যদি বিজেপিকেই সমর্থন করতে চান, তাহলে সরাসরি বিজেপিতে চলে যান।

বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, লুটেরা বিজেপির থেকে দেশ বাঁচান। দরকার হলে ককরোচদের কর্মসূচিতে আমি নিজেও যাব। প্রথম থেকেই আমাদের সমর্থন ছিল, আছে এবং থাকবে।

এরআগে গতকাল সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপরে পুলিশের এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার তীব্র সমালোচনাও করেছিলেন মমতা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেওয়া এক পোস্টে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যে সরকার নিজের দেশের ছাত্রদেরই ভয় পায়, তাকে কেমন সরকার বলা যায়? যে গণতন্ত্রে মানুষের প্রশ্নের জবাব সংলাপের মাধ্যমে নয়, লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস দিয়ে দেওয়া হয়, তাকে কেমন গণতন্ত্র বলা যায়?’

প্রসঙ্গত, ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনইইটি)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে তরুণদের প্লাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের কাছে প্রশ্ন বিক্রি হওয়ায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

তাদের ভারতে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার মেডিকেল আসনের জন্য প্রতিযোগিতা করেন। অনেক পরিবার সন্তানদের কোচিং করাতে সঞ্চয় ব্যয় করে বা ঋণ নেয়। প্রশ্নফাঁসের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় হতাশ হয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক ডজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে দেশজুড়ে জনসমর্থন গড়ে তোলে সিজেপি।

জুনের শুরুতে দিল্লিতে প্রথম বড় কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। মাসের শেষ দিকে দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ শুরু করে তারা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যোগ দেন লাদাখের প্রকৌশলী ও শিক্ষা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন শুরু করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় অনশন চলার পর ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আদালত তার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। পরে অনশনের ২০তম দিনে দিল্লি পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ এটিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পদক্ষেপ বললেও একে বেআইনি আটক বলে দাবি করে ‘চলো সংসদ’ নামে লংমার্চ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি।

সোমবার (২০ জুলাই) সিজেপির ডাকে হাজারো মানুষ মধ্য দিল্লিতে জড়ো হন। আগের রাত থেকেই অনেক আন্দোলনকারী অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিভাবকেরাও বিক্ষোভে অংশ নেন।

তবে দিল্লি পুলিশ সংসদমুখী পদযাত্রার অনুমতি না দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসায় এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা সীমিত করে। এরপরও দুপুরের আগেই ২০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভস্থলে জড়ো হন। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।

সূত্র: নিউজ১৮/সংবাদ প্রতিদিন

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech