।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইসরায়েলের হামলার জবাবে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার ১৩ জুন রাতে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে অপারেশন ‘ট্রু প্রমিজ থ্রি’ শুরু করে দেশটি।
ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আতঙ্কিত হয়ে দপ্তর ছেড়ে চলে যান।
শনিবার ১৪ জুন সকালেও ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অজানা স্থানে, সম্ভবত গ্রিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবরে জানা গেছে।। গতকাল শুক্রবার হিব্রু সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এ খবর জানিয়েছে।
তেল আবিব থেকে এএফপি এ খবর জানায়। ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দাবি করা হয়েছে, নেতানিয়াহুর বিমানটি অধিকৃত অঞ্চলের বাইরে অজানা স্থানে চলে গেছে।
শুক্রবার ভোর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানের আশপাশে এবং অন্যান্য শহরে ধারাবাহিক সামরিক হামলা শুরু করে ইসরাইল। এরপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিশোধের হামলার শুরুতেই নেতানিয়াহুর অজানা স্থানে চলে যাওয়ার খবর এলো।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা’র প্রতিবেদন অনুসারে, চ্যানেল-১২ নেতানিয়াহুর বিমানের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, দু’টি যুদ্ধবিমান তাকে পাহারা দিয়ে ইসরাইলি অঞ্চলের বাইরে একটি অজানা স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
পরে আরেক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নেতানিয়াহুকে বহনকারী বিমানটি গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অবতরণ করেছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি এবং ইসলামিক রেভ্যূলিউশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামিসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা হামলায় নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় ৬ পরমাণু বিজ্ঞানীও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরনা।
অন্যদিকে সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর বাংকারের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখান থেকে তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিএনএনকে তথ্যটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবারের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলেছেন। কৌশলগত কারণে তার অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে।
ইরনার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরানের বিরুদ্ধে হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অজ্ঞাত কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভবত তাকে গ্রিসে নেওয়া হয়েছে। তবে তথ্যটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে হামলা থেকে বাঁচতে ইসরায়েলি সাধারণ নাগরিকদেরও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে।
কারণ, ইরানের এবারের হামলা যেকোনো সময়ের চেয়ে ব্যাপক। রাতে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে বলেছে, নতুন করেও ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে। সেসব প্রতিহত এবং হতাহতদের উদ্ধারে তারা কাজ করছেন। শনিবার সকালেও হামলা অব্যঞম রয়েছে।