।।বিকে রিপোর্ট।।
দেশেই মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন তৈরি করবে বিমানবাহিনী। ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
মঙ্গলবার ১৭ জানুয়ারী ঢাকা সেনানিবাসের বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বিমানবাহিনী এবং চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন ইন্টারন্যাশনালের (সিইটিসি) মধ্যে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্টের আওতায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআর জানায়, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে দেশে একটি আধুনিক ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন সুবিধা স্থাপন করবে। এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পদক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যা দীর্ঘমেয়াদে ড্রোন উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়ক হবে।
প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রাথমিকভাবে মধ্যম উচ্চতায় উড্ডয়নকারী স্বল্প স্থায়িত্বসম্পন্ন মনুষ্যবিহীন আকাশযান (মিডিয়াম অলটিটিউড লো এনডিউরেন্স—মেইল) এবং উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং—ভিটিওএল) উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি নিজস্ব নকশায় ড্রোন উৎপাদনের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
এসব মনুষ্যবিহীন আকাশযান সামরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ চুক্তির ফলে দেশীয় ড্রোন উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সক্ষমতা সম্প্রসারিত হবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষ অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
এ চুক্তির ফলে দেশীয় ড্রোন উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সক্ষমতা বাড়বে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষ অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতেও অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।