।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ জনে দাড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৭৫০ জনের বেশি মানুষ।
রবিবার ২৭ এপ্রিল স্থানীয় কর্মকর্তা সূত্রে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েচেন সংবাদ সংস্থা বিবিসি।
উল্লেখ্য স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার ২৬ এপ্রিল সকালে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বন্দর আব্বাসের কাছে দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দর শহীদ রাজেইতে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের সময় আশেপাশের ভবনের জানালা এবং ছাদ উড়ে যায় এবং বেশ কিছু গাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের প্রভাব ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দূরেও অনুভূত হয়েছে।
তবে এটি কোনো ধরনের নাশকতা নয় বলে জানিয়েছে ইরান। তারা বলেছে, দাহ্য পদার্থের কারণে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ১৬ কিলোমিটার দূরের বাড়িঘরের জানালাও ভেঙে যায়। এছাড়া বন্দরটির একটি ভবনের দরজা জানালাও উড়ে গেছে।

ইরানের রেসকিউ সংস্থার প্রধান বাবাক মাহমুদি নিশ্চিত করেছেন বিস্ফোরণে তাৎক্ষনিক চারজন নিহত এবং ৫১৬ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে যেসব অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখান থেকে আহতদের উদ্ধার করতে দেখা গেছে উদ্ধারকারীদের। এছাড়া হাসপাতালেও আহতদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে।
ইরানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র হোসেইন জাফারি বার্তাসংস্থা আইএলএনএ জানিয়েছেন, ‘কনটেইনারের ভেতর থাকা রাসায়নিকের কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে’। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
দেশটির সরকারি টিভি জানিয়েছে, দাহ্য পদার্থগুলো সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শহীদ রাজী নামে যে বন্দরটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে এটি ইরানের সবচেয়ে আধুনিক ও বড় বন্দর। এখানে মূলত জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানামা করা হয়। প্রতিবছর এই বন্দরটি দিয়ে ৮০ মিলিয়ন টন পণ্য হ্যান্ডেলিং করা হয়।

বিবিসির যাচাই করা বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে যে, একটি বিশাল বিস্ফোরণের আগে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখান থেকে লোকজন পালানোর চেষ্টা করছিল। অনেকেই আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিল।
স্থানীয় একজন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, পুরো গুদাম ধোঁয়া, ধুলা এবং ছাই দিয়ে ভরে গিয়েছিল। আমার মনে নেই আমি টেবিলের নিচে পড়ে ছিলাম নাকি বিস্ফোরণে সেখানে গিয়ে পড়েছি।
এই ঘটনার পর প্রাথমিক প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণে অবহেলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরানের শুল্ক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণটি সিনা কন্টেইনার ইয়ার্ডে ঘটে, যা বন্দর ও ম্যারিটাইম অরগানাইজেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সেখানে একটি দল পাঠিয়েছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি, তদন্ত চলছে। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আহতদের প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বেশ কিছু ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনটি এলাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরে নিশ্চিত করেছেন যে আগুন এক কন্টেইনার থেকে অন্য কন্টেইনারে ছড়িয়ে পড়ছে। রোববার ওই এলাকার সব স্কুল এবং অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসংগত, ইরানে শিল্প অবকাঠামোগুলোতে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের তেল অবকাঠামোগুলো বেশ পুরোনো হয়ে গেছে।
এদিকে ইরানে এমন সময় এ বিস্ফোরণ ঘটল যখন ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা চলছে। প্রথমে সেখানে নাশকতার আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, এটি ছিল দুর্ঘটনা। এছাড়া দখলদার ইসরায়েলও জানিয়েছে, ইরানি বন্দরে বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।