।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সেরিক, মিনাব ও কেশম দ্বীপ এলাকায় এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে এসব বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে ১০টি জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই ১০ জাহাজের মধ্যে ২টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বাকি ৮টি তেলবাহী ট্যাংকার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও আনাদোলু জানিয়েছে, সেরিকের কয়েকটি এলাকায় ‘শত্রুপক্ষের ছোড়া প্রজেক্টাইল’ আঘাত হেনেছে। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে বা কী ধরনের প্রজেক্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবরও প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে ওমান উপসাগর এবং খার্গ দ্বীপের কাছে অভিযান চালিয়ে ইরানের ৫টি ট্যাংকার জাহাজ অকেজো করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর আগে গত ৬ এবং ৭ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে মার্কিন নৌবাহিনীর দু’টি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছিল আইআরজিসি।
৮ সেপ্টেম্বরের মার্কিন হামলার জবাব দিতে রাতে হরমুজ প্রণালিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে বিৃবতিতে জানিয়েছে আইআরজিসি।
এদিকে গত কাল ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলার মাত্রা বাড়ছে এবং এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে আক্রমণের নীতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
“ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো লক্ষ্য করে হামলা করেই যাচ্ছে। নিয়মিত তারা এটা করছি বা করার চেষ্টা করছে। যদি তারা এই নীতি ত্যাগ না করে, তাহলে শিগগিরই নিজেদের সব বাণিজ্যিক ও ট্যাংকার জাহাজ তারা হারাবে”, বলেছেন মার্কো রুবিও।
বুধবার হরমুজে হামলার শিকার ট্যাংকার জাহাজগুলো সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি আইআরজিসি, তবে ব্রিটিশ জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, আইআরজিসির হামলায় হারকিউলিস স্টার নামের একটি জাহাজের একজন নাবিক নিহত হয়েছেন।
ইরাকের বন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের একটি ট্যাংকার জাহাজ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ‘নিউ আন্দ্রোস’ নামের ট্যাংকারটিতে ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল এবং ইরানি ড্রোনের আঘাতে আগুন ধরে গিয়েছিলো। তবে জাহাজটির ২২ জন নাবিকের সবাই অক্ষত আছেন।
সূত্র : রয়টার্স