।।বিকে রিপোর্ট।।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সংলাপে যোগ দিতে কক্সবাজারে পৌঁছেঁছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি সংলাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সোমবার ২৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান।
সম্মেলনের মূল অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন বেলা ১১টা থেকে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা সম্মেলনের মূল অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কার্যকর সহযোগিতা কামনা করবেন।
উল্লেখ্য, ‘হোটেল বে ওয়াচে’ রবিবার ২৪ আগস্ট ‘স্টেকহোল্ডারস’ ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শীর্ষক তিন দিনের এই সংলাপ শুরু হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও টেকসই সমাধানের পথ খুঁজতে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সরকারের উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকরা।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বাসসকে জানান, সংলাপ মূলত সেপ্টেম্বরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতিমূলক ধাপ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। এর বিশেষ তাৎপর্য হলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণ। তারা এখানে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, হতাশা এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা জানাবেন। এই মতামত ও আলোচনা ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আলোচনায় প্রতিফলিত হবে।
সংলাপে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক অঙ্গনে দৃশ্যমান রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় স্থান পেয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এই সংলাপ আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ হবে।
সম্মেলনের প্রথম দিন বিকেলে বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা। এতে যোগ দিয়েছেন ৪০টি দেশের প্রতিনিধি। ছিলেন জাতিসংঘসহ রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ করা সব অংশীজন। তিন দিনের এই সম্মেলন থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজবেন তারা।
শেষ দিন মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন বিদেশি অতিথিরা। এছাড়া তিন দিনের সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ছাড়াও আন্তর্জাতিক ফান্ড, গণহত্যার বিচার, খাদ্য সহায়তা ও রোহিঙ্গাদের মনোবল বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর ওপর জোর দেওয়া হবে।