Breaking News:


শিরোনাম :
সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করব ট্রাম্পের ভাষণ: ইরানের সামরিক সক্ষমতা চূর্ণ করেছি, বক্তব্য শেষ হতেই মিসাইল ছুড়ল ইরান মার্চে এসেছে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার সুনামগঞ্জে মজুদকৃত ২ হাজার ৮০ লিটার ডিজেল জব্দ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী জ্বালানিবাহী ৬ বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি: ইরানের রাষ্ট্রদূত সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক : পেলেন পাশে থাকার আশ্বাস বলিভিয়াকে হারিয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ইরাক

কাতারে ট্রাম্পকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা: ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিমান উপহার!

  • ১২:০৯ পিএম, শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিন তাকে আবুধাবির বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। এছাড়া আমিরাতের মেয়েরা দেশটির ঐতিহ্যবাহী চুল খোলা খালেগি নাচে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ পরামর্শক মার্গো মার্টিন এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, লম্বা চুলের অধিকারী তরুণীরা মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে ট্রাম্পের সামনে নৃত্য প্রদর্শন করেন।

এদিকে আরব দেশগুলো যখন ট্রাম্পের সামনে চাকচিক্যের ঝনঝনানি প্রদর্শন করছে তখন ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানুষের ওপর বর্বরতা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরায়েল।

ধারণা করা হয়েছিল ট্রাম্পের সফরের সময় হামাস ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি হবে। তবে তা এখনো হয়নি।

এদিকে উপহার হিসেবে কাতার ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিমান উপহার দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।  

বোয়িং ৭৪৭-৮ মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কাতার, যা প্রেসিডেন্টের বিমান ভ্রমণের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এয়ার ফোর্স ওয়ান বহরের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

বর্তমানে এই বহরে ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহৃত দুটি ৭৪৭-২০০ জেট এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ছোট এবং অপেক্ষাকৃত গোপনীয় ৭৫৭ বিমানও রয়েছে।

কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে বিলাসবহুল বিমান নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেকেই ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। এমনকি চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগেই এ নিয়ে সমালোচনা করছেন তার অনেক কট্টর সমর্থকও।

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও এ বিষয়ে নিজের পক্ষে অনেককে যুক্ত করতে পেরেছেন তিনি। যেটাকে তার জন্য বড় অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউজের জন্য অস্বস্তির বিষয় হলো, বিপক্ষেও বড় ঐক্য তৈরি হয়েছে।

বড় মাপের ইনফ্লুয়েন্সাররা (যারা বিভিন্ন ইস্যুতে জনমত গঠন করেন) এই পদক্ষেপকে ঘুস, দুর্নীতি কিংবা উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে অতীতে ট্রাম্প নিজেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন বহুবার।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, নতুন বিমানটি- সংস্কার ও আপগ্রেড করতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে এবং লাখ লাখ ডলার খরচ হতে পারে। তাই ট্রাম্পের মেয়াদ শেষে তা প্রেসিডেন্টের সংরক্ষণাগারে স্থানান্তর করা হবে।

রক্ষণশীল ডেইলি ওয়্যারের বক্তা বেন সাপিরো তার পডকাস্টে বলেন, আমি মনে করি, বিষয়টি ন্যক্কারজনক। কাতার কেবল নিজেদের মনের খুশির জন্যই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিমানটি দিচ্ছে না, দ্বিপাক্ষিক উপায়ে নিজেদের পকেটে অর্থ ঢোকানোর চেষ্টাও রয়েছে তাদের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রভাবশালী আলোচক লরা লুমার, যিনি কিনা হোয়াইট হাউজের অপেক্ষাকৃত কম অনুগত শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলন করছেন, তিনিও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করার জন্য ট্রাম্পপন্থি বার্তাগুলোর উন্মুক্ত প্রবাহকে দায়ী করেছেন।

প্রেসিডেন্টকে এখনো সমর্থন করার কথা বললেও বিমান চুক্তিকে তিনি একটি দাগ হিসেবেই উল্লেখ করছেন।

বিমান উপহার নেয়ার পরিকল্পনার জন্য মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছ থেকেও খুব কম সমর্থন পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিউইয়র্ক পোস্ট, যাদেরকে আড়ালে ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে, তারাও স্পষ্ট সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে যেখানে বলা হয়েছে, কাতারের জেট বিনামূল্যের উপহার নয় এবং ট্রাম্পেরও উচিত হবে না এটিকে উপহার হিসেবে গ্রহণ করা।

এসব সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউসও দ্বিগুণ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ট্রাম্পের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রশাসন পূর্ণ স্বচ্ছতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, বিদেশি সরকারের কাছ থেকে যেকোনো উপহার সব সময় প্রয়োজনীয় সব আইন মেনেই গ্রহণ করা হয়।

যদিও বিমানের বিনিময়ে কোনো কিছুই লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসেনি, তবুও অনেকে বলেছেন, কোনো শর্ত বা আশা ছাড়াই কাতারের রাজপরিবার এত বিশাল উপহার দেবে এমনটা আশা করা বোকামি হবে।

রাজনৈতিক কৌশলবিদ ও রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক যোগাযোগ পরিচালক ডগ হেই বিবিসিকে বলছেন, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দিয়ে পুরস্কৃত করেন, তাহলে তা ভবিষ্যতে লাভজনক হতে পারে। চাটুকারিতার মাধ্যমে আপনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিতে একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন এবং এর উদাহরণ বারবার দেখা গেছে।

মার্কিন সংবিধানে একটি ধারা রয়েছে যা দেশটির কর্মকর্তাদের যেকোনো দেশের রাজা, যুবরাজ বা বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো ধরনের উপহার, বেতন, খেতাব গ্রহণে বাধা দেয়।

এদিকে শুক্রবার ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যাবেন। কিন্তু তার সফর শেষ পর্যায়ে হলেও এখনো গাজায় যুদ্ধবিরতির কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে দখলদাররা ট্রাম্প যাওয়ার আগেই হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

গতকাল বুধবার প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। আজ এ সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এবং সবমিলিয়ে গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নারী ও শিশু।

গাজায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল। এতে করে সেখানকার মানুষ অনাহারে জীবনযাপন করছেন। কিন্তু দখলদাররা তাদের হামলা বন্ধ রাখেনি। এতে করে নিমিষে ক্ষুধার্থ ক্লান্ত এসব মানুষের প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।  সূত্র: বিবিসি

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech