‘কানেকশন্স থ্রু কালচার গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম ২০২৫ : বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল

  • ১০:০৬ পিএম, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
যুক্তরাজ্য ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শিল্পীদের মধ্যে দৃঢ় অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘কানেকশনস থ্রু কালচার’ (সিটিসি)-এর গ্রান্ট প্রোগ্রামের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

এ প্রোগ্রামের অধীনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের চারটি যৌথ প্রকল্পে অনুদান (গ্রান্ট) প্রদান করা হবে। সবমিলিয়ে, মোট ৮৪টি উদ্ভাবনী উদ্যোগকে এই কর্মসূচির আওতায় সহায়তা প্রদান করা হবে।

এ বছর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার শিল্পীদের  এই গ্রান্ট প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে একটি মাইলফলক প্রতিষ্ঠিত হলো।

অনলাইনে প্রস্তাবনা আহ্বানের মাধ্যমে নির্বাচিত ১৯টি দেশের মোট ১২৭টি প্রকল্পে অনুদান প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশে এই বছর সাতটি প্রকল্পকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে চালু হওয়া এই গ্রান্ট প্রোগ্রামের আবেদন ও অনুদানের সংখ্যা এই বছর প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা শিল্পীদের মধ্যে আগ্রহ ও অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীদের যেসব প্রকল্পে তহবিল প্রদান করা হবে: এরগন থিয়েটার (ইংল্যান্ড) ও ইয়ুথনেট গ্লোবালের (বাংলাদেশ) ‘টাইগার উইডো’; সাম্পাদ (ইংল্যান্ড) ও আনন্দিতা খানের (বাংলাদেশ) ‘নীল আকাশ’ (ব্লু স্কাই);  অ্যাডাম লুইস জেকব (স্কটল্যান্ড) ও দৃকের (বাংলাদেশ) ‘ইদরিস’ এবং বার্মিংহাম কন্টেম্পোরারি মিউজিক গ্রুপ (ইংল্যান্ড) ও নীল কমরুলের (বাংলাদেশ) ‘দ্য স্টোরি অব মায়া’ (দ্য মেকিং অব দ্য স্টোরি অব মায়া)’।

সিটিসি গ্রান্ট প্রোগ্রামের আওতায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোট ১১ কোটি টাকার বেশি অনুদান প্রদান করা হবে, যার মধ্যে বিজয়ী বাংলাদেশী অংশগ্রহণকারীদের প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৬০ লাখ টাকার বেশি। এই অনুদান শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে তাদের সৃজনশীল ভাবনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব আর্টস সাদিয়া রহমান বলেন, এই সাতটি প্রকল্প যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের শিল্পী ও সংগঠনগুলোর মধ্যে যৌথ সৃজন, সহ-উৎপাদন এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজের সুযোগ তৈরি করছে। নতুন, উদ্ভাবনী ও আকর্ষণীয় উদ্যোগগুলো শিল্পের শক্তি ও সংলাপের গুরুত্ব প্রমাণ করছে।

আর্টস ডিরেক্টর রুথ ম্যাকেঞ্জি, সিবিই বলেন, ‘এই প্রোগ্রামের বৈচিত্র্য, নতুন চিন্তা ও শিল্পচর্চার সংমিশ্রণে সীমান্ত পেরিয়ে শান্তি, আস্থা ও সমৃদ্ধি আনয়নে শিল্পের ভূমিকা শক্তিশালী করছে।’ ব্রিটিশ কাউন্সিল এই পর্বে দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে অনুদান প্রাপ্তদের জন্য প্রায় ১১ লাখ ৯৬ হাজার ২৩৩ ব্রিটিশ পাউন্ড সমমূল্যের অনুদান প্রদান করছে।

২০২৪ সালের অনুদান লাভ করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে চলচ্চিত্র, সৃষ্টিশীল প্রযুক্তি, সাহিত্য, দৃশ্যকলা, মঞ্চ, নৃত্যকলা, ডিজাইন, ফ্যাশন, হস্তশিল্প ও সংগীতের মতো নানা ক্ষেত্রের উদ্যোগ। বৈচিত্র্যময় ও বহুমুখী এ প্রকল্পগুলো নতুন ভাবনার তৈরি করবে, যা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, যেমন বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব আর্টস সাদিয়া রহমান বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালের গ্রান্ট প্রোগ্রামের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত। তাদের প্রকল্পগুলো আন্তঃসাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে।’

তিনি আরও বলেন, এই অংশীদারিত্ব শিল্প ও সৃষ্টিশীল মানুষদের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রকে সমৃদ্ধ করবে। একইসাথে, বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কট মোকাবিলায়ও ভূমিকা রাখবে। আমরা আশাবাদী, এ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

উল্লেখ্য, ‘কানেকশন্স থ্রু কালচার’ ব্রিটিশ কাউন্সিলের আর্টস সংক্রান্ত একটি অনুদান প্রোগ্রাম, যা যুক্তরাজ্য এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে নতুন সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বিকাশ ঘটাতে এবং শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নতুন উদ্যোগ ও অংশীদারিত্বকে সমর্থন করতে কাজ করে।  

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech