Breaking News:


শিরোনাম :
৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ইরানকে অস্ত্র না দিতে সি চিন পিংকে চিঠি ট্রাম্পের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৫ ইউনিট সাবেক আওয়ামী মেয়র মনজুরের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ বিকল্প শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি সভা-প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের নির্দেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে হামের প্রকোপ: লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন ১০৩ রোগী হরমুজে বিধ্বস্ত হলো ২৪ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ

কারাগারে কেমন কাটলো দাপুটে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঈদ

  • ০৯:১২ পিএম, সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
গত ঈদেও যে সকল আওয়ামীলীগের দাপুটে নেতারা রাজকীয় জীবন আর জমজমাট ঈদ পালন করেছেন, এবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে বাস্তবতা ভিন্ন। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর যে সকল নেতা পালাতে পারেননি, তাদের ঠিকানা এখন কারাগার।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, কিংবা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথিত ছোটভাই সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, শাজাহান খান, কাজী জাফরউল্লাহ, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি সহ সকল নেতারাই অসহায়ত্বেও কেউ পাশে নেই। তাদের ঈদ কারাভ্যন্তরেই কাটছে নীরবে-নিভৃতে অসহায় হয়ে ঈদ করছেন কারাগারে।

এর বাইরে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, সাবেক এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, বিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ মালেক, আব্দুর রহমান বদি, সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সাবেক খাদ্য উপমন্ত্রী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, সাবেক এমপি ও হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনি, সাবেক এমপি মাসুদা সিদ্দীক রোজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বেনজীর হোসেন নিশিসহ  দলটির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অসংখ্য নেতা এবার কারাগারে ঈদ করছেন।

প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান দলটির নেতারা। আর যারা পালাতে পারেননি, তারা জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি, হত্যা এবং বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংসহ নানা মামলায় আছেন কারাগারে।

কেমন গেল তাদের ঈদ? কি কি খেলেন তারা ঈদে এ প্রসঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রতিবারের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে কারাগারে থাকা সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের একই ধরনের খাবার দেওয়া হবে। এই দিন সকালের খাবারে থাকছে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি।

এ দিন সকালের খাবারে থাকছে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে থাকছে পোলাও বা খিচুড়ি, মুরগির রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, সালাদ, মিষ্টি ও পান। আর রাতে দেওয়া হবে ভাত, আলুর দম ও ডিম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পর হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা মামলায় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৩১ জন কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে ডিভিশন পেয়েছেন ১০৮ জন, যাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ২৯ জন; সাবেক সংসদ সদস্য ২২ জন; সরকারি কর্মকর্তা ৪৪ জন এবং অন্যান্য পেশার ১৩ জন। ডিভিশন পাননি ভিআইপি হিসেবে কারাগারে আছেন ২৩ জন।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ বন্দিদের মতোই কারাগারে থাকা ভিআইপিসহ (বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের একই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হবে।

অন্যদিকে সারা বছর সাধারণ বন্দিদের সকালে দেওয়া হয় হালুয়া, রুটি ও ডিম। দুপুরের খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, ডাল, সবজি। রাতে খাবার দেওয়া হয় ভাত, ডাল, মাছ বা গরুর মাংস। আর ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের খাবার তাদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।

ঈদের দিন কারাগারগুলোর চার দেয়ালের মধ্যে বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজের জামাত হয়। উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি বন্দিদের জন্য তাদের স্বজনদের আনা খাবারও তাদের খেতে দেওয়া হয়।

ঈদের পরদিন যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কারাগারের ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবে কারাগারগুলো।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ঈদের দিন কারাগারগুলোর বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজের জামাত হয়। উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি বন্দিদের জন্য স্বজনদের আনা খাবারও তাদের খেতে দেওয়া হয়। ঈদের পরদিন যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কারাগারের ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবে কারাগারগুলো।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech