।।বিকে রিপোর্ট।।
কোনো অসৎ-দুর্নীতিবাজের সুন্দর গল্প বিশ্বাস করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি রাতে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
এর আগে আজ সকাল থেকে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন শফিকুর রহমান। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রংপুরে জনসভার মঞ্চে ওঠেন জামায়াতের আমির। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা তিনি বক্তব্য দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, এই বাংলাদেশ যাঁরা গড়ার কথা বলবেন, তাঁদের নিজেদের চরিত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা এটার উপযুক্ত।
কোনো অসৎ, দুর্নীতিবাজ, তাঁরা যদি অনেক সুন্দর সুন্দর কথা এবং গল্প শোনান, এদের কখনো বিশ্বাস করবেন না।
এঁরা নির্বাচনেই রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে মজার মজার কথা বলে আপনাদের একেবারে দেখবেন যে চৌদ্দ আকাশে পাঠায় দিচ্ছে। এঁরা ধোঁকাবাজ। চিনে রাখবেন, এঁদের “ইয়েস” বলবেন না। এদের কী বলবেন? “নো”। এদের বলবেন, তোমাদের জন্য লাল কার্ড। কী কার্ড? লাল কার্ড।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের আশা ছিল, ৫ তারিখের পরিবর্তনের পর সবাই এখান থেকে শিক্ষা নেব। কেউ আর জনগণের সম্পদ, ইজ্জত এবং জীবনের দিকে হাত বাড়াব না। আমাদের আশা কি পূরণ হয়েছে? রংপুরের মানুষ খুবই ভালো, শিক্ষিত এবং ভদ্র। অল্পে তুষ্ট। এ এলাকার মানুষ মোটেই চাঁদাবাজি করে না। এখানে চাঁদাবাজ আছে? এ রকম এলাকায়ও চাঁদাবাজি হয়? এখানে বিভিন্ন স্ট্যান্ড দখল হয়? এখানে মামলা-বাণিজ্য হয়?
আমরা বলেছিলাম একজনও সাধারণ নিরীহ মানুষকে অভিযুক্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কাউকে মামলায় আসামি বানানো হবে না। তাই আমরা হাজার হাজার মামলা করিনি। ৮টি মামলা করেছি যেখানে আসামি মাত্র একজন। আমরা চাই না কেউ প্রতিহিংসার শিকার হয়ে, কেউ লোভ-লালসার শিকার হয়ে একদিনের জন্য জেলের ভাত খাক। সাড়ে ১৫ বছর দফায় দফায় জেলে গিয়েছি। আমরা নিজেরা মজলুম হয়েছি, কাউকে মজলুম বানাতে চাই না।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেশ ও জাতিকে আর টুকরো টুকরো করতে চাই না। আর বিভক্ত করতে চাই না। সাম্য ও ঐক্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন। নির্বাচনে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ পেলে আমরা বলবো- আসুন আগামী ৫ বছর এক হয়ে দেশ পরিচালনা করি। তবে এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত মেনে আসতে হবে। দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতির আশ্রয় দেব না, সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ও বস্তা পচা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
জামায়াতের আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, দুর্নীতি যেন আর সমাজে চলাফেরা করতে না পারে এমন দেশ ও সমাজ গড়ার জন্য দেশবাসী মুখিয়ে আছে। বিশেষ করে যেসব যুবকরা গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছে তারা মুখিয়ে আছে। আমরা তাদের কাছে ওয়াদাবদ্ধ, তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে লড়াই যতদিন চালিয়ে যেতে হবে আমরা প্রস্তুত। এ লড়াই থামবে না। এ লড়াই তখনই পূর্ণতা পাবে যখন জনগণ ও যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সাম্য, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, আধিপত্যবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা চাই যেসব যুবকরা মৌলিক দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে বলেছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা সেই ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়তে চাই।
জামায়াতের আমির বলেন, আমরা কাউকে বেকার ভাতা দেব না। দেশে বেকারের কারখানা করতে চাই না। প্রত্যেক কর্মক্ষম নারী-পুরুষ তাদের দুই হাতকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। বেকারদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই।
নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে বলছেন নির্বাচিত হলে কর্মক্ষেত্রে মা-বোনেরা সুযোগ পাবে কি। ঘরের ভেতরে মা-বোনেরা চলতে পারলে, সমাজে চলতে পারবে না কেন। ঘর যেমন নারী ছাড়া চলে না, সমাজও নারী ছাড়া চলবে না। দক্ষতা অনুযায়ী সকল জাতি, ধর্মের নারীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে।
রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, রংপুর-১ আসনের প্রার্থী রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিনসহ জামায়াত ও শিবিরের নেতারা।
শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগামী নির্বাচনে তাদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার কথা বলেন।