।।বিকে রিপোর্ট।।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির পর এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং এনসিপি শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদারের (৪২) মাথায় গুলি করা হয়েছে।
সোমবার ২২ ডিসেম্বর দুপুরে নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোতালেব শিকদারকে খুলনা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিটি মোতালেব শিকদারের মাথার বামপাশে বিদ্ধ হয়েছে। জরুরি বিভাগে নেওয়ার সময় তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা দ্রুত সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মাথায় গুলি করা হয়।ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মো. মোতালেব শিকদারকে (৪২) ‘বাসার ভেতরের অন্তর্কোন্দলে’ গুলি করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। প্রথমে তিনি পুলিশকে বলেন, মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে গেছে। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ঘটনাটি রাস্তায় নয়, বাসার ভেতরেই ঘটেছে।
সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল বলেন, গুলিটি মোতালেব শিকদারের মাথার চামড়া স্পর্শ করে বেরিয়ে যায়। এতে রক্তক্ষরণ হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং শঙ্কামুক্ত।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে ভুক্তভোগী আমাদের জানিয়েছিলেন, রাস্তায় মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে গুলি করে চলে যায়। পরে দেখলাম যে ঘটনা ঘরের ভেতরের। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একজন–দুজন তাঁকে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁকে কারা হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেটাও আমরা খুঁজে দেখছি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পুলিশের কাছে খবর আসে যে এনসিপির একজন গুলিবিদ্ধ। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। গাজী মেডিকেল কলেজের পাশে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ভুক্তভোগীর কাছে পুলিশের দল পাঠানো হয়। গাজী মেডিকেল কলেজের পাশের একটি ফার্মেসি থেকে ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়। ওই ভিডিও ফুটেছে দেখা যায়, গতকাল রোববার রাতে ভুক্তভোগী এবং তাঁর সঙ্গে আরও দুজন পুরুষ একটি গাড়িতে করে আসেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে নেমে গাজী মেডিকেলের পেছন দিকের আল আকসা মসজিদের দিকে আসেন। ওই সূত্র ধরেই ঘটনাস্থল শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা মুক্তা হাউস নামের বাড়িতে এসে দেখতে পাই, ঘটনাস্থল এখানেই। এখানে বিভিন্ন স্থানে আমরা রক্তের দাগ পেয়েছি। ঘরটিতে ঢোকার পর আমরা দেখতে পাই, সেখানে মাদকের ছড়াছড়ি। বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং সেখানে আমরা একটি গুলির খোসাও পেয়েছি। একটি বিষয় আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে এখানে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের অন্তর্কোন্দলের কারণে গুলির ঘটনাটি ঘটেছে।
মুক্তা হাউসের মালিক আশরাফুন নাহার বলেন, একজন নারী বাসাটি ভাড়া নেন। স্বামীসহ থাকবেন বলেছিলেন। বাসাটিতে নিয়মিত অন্যদের যাতায়াত ছিল। এ কারণে তাঁকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। এক মাস আগে তিনি বাসাটি ভাড়া নেন।
এনসিপির খুলনা মহানগরের সংগঠক সাইফ নেওয়াজ বলেন, মোতালেব শিকদার এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক। সামনে দলের একটি বিভাগীয় শ্রমিক সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল, সেটির প্রস্তুতিতে তিনি যুক্ত ছিলেন।
এনসিপির খুলনার সংগঠক হামীম আহম্মেদ রাহাত বলেন, তাঁরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন যে ব্যক্তিগত কাজে বের হওয়ার সময় তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে বের করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।