।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দখলদার ইসলায়েলের বছরব্যাপী নির্বিচার টানা বোমা হামলায় বিদ্ধস্ত গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের জন্য মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি পাঁচ বছর মেয়াদী ৫৩০০ কোটি ডলারের তহবিল তৈরির প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। সে প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে আরব লীগ ও জাতিসংঘ।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা দখলে নিয়ে উপত্যকাটির বাসিন্দাদের অন্য দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন। তবে আরব দেশসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশও ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রস্তাবের বিপরীতে পাল্টা মিশর ফিলিস্তিনিদের গাজায় রেখেই গাজা পুনর্গঠনে পরিকল্পনা বানানোর কাজে হাত দেয়।
মিশরে আরব নেতাদের এক সম্মেলনে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, ফিলিস্তিনি ভাইদের সহায়তায়, মিশর স্বাধীন পেশাদার এবং প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কমিটি গঠনের জন্য কাজ করেছে, যারা তাদের দক্ষতা দিয়ে গাজা শাসন করবে। আর নিরাপত্তার জন্য মিশর ও জর্ডান ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে বলেও প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তিনি জানান, একটি ‘অস্থায়ী সময়ের’ জন্য এই কমিটি ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি এবং গাজা শাসনের দায়িত্ব পালন করবে, যা পশ্চিম তীরভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পিএ-এর অধীনে থাকবে এবং এর সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে না।
জর্ডানের সরকারি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হবে। মিশরের প্রেসিডেন্টের লোগো সম্বলিত ৯১ পৃষ্ঠার ‘গাজা ২০৩০’ নামে এই প্রস্তাবটি ট্রাম্পের ‘গাজা রিভারিয়া’ পরিকল্পনার বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। ৫৩ বিলিয়ন ডলার বাজেটের এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য গাজার ফিলিস্তিনিদের নিরাপদে রাখা এবং তাদের বাস্তুচ্যুত না করা।
মিশরের এই পুনর্গঠন পরিকল্পনায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৫৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে শপিং মল, একটি বিমানবন্দর এবং পর্যটন বৃদ্ধির জন্য রিসোর্ট নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরিকল্পনায় ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও অস্থায়ী বাসস্থানের জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার, ইউটিলিটি ও স্থায়ী আবাসনের জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার এবং একটি সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও শিল্পাঞ্চল গঠনের জন্য ৩০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিকল্পনায় গাজা ও পশ্চিম তীরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে ২০৩০ সাল পর্যন্ত আরও দুই লাখ হাউজিং ইউনিট, একটি বিমানবন্দর, বাণিজ্যিক এলাকা, হোটেল ও পার্ক তৈরির কথা বলা হয়েছে। মোট ৩০ লাখ মানুষের থাকার জায়গা তৈরি করার কথা বলেছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে। জাতিংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস তার পূর্ণ সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছেন।
সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মতো ধনী উপসাগরীয় দেশগুলো এই উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেবে। তবে তারা হামাসকে সরাসরি সহযোগিতা করবে না। যুক্তরাষ্ট্র চায় গাজা যেন হামাস নিয়ন্ত্রণ না করে। মিসরের প্রস্তাব, গাজা নিয়ন্ত্রণ করবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর কথা আলোচিত হচ্ছে।
আগামী মাসে তহবিল সংগ্রহে একটি সম্মেলন আয়োজন করবে মিশর। তবে এসব উদ্যোগ এখনো অনিশ্চয়তায় ঝুলছে। কারণ ইসরায়েল হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, হামাস বলছে এটা হলে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হবে। হামাস বলছে তারা অস্ত্র ছাড়বে না, দলটির কর্মকর্তারা বলছেন,নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার বিষয় নয়। তবে ফিলিস্তিনি ঐক্যমতের ভিত্তিতে গাজার শাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।
প্রসংগত, গত প্রায় ১৪ মাসের দখলদার ইসরায়েলের হামলায় গাজা উপত্যকার ৮০ ভাগ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় পাঁচ কোটি টন ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে পুরো অঞ্চল।