Breaking News:


গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় ন্যাটো মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা

  • ০১:২৮ পিএম, রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি থেকে রক্ষার জন্য গ্রিনল্যান্ডে ন্যাটো বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা।

যদি ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তে বিরোধিতা করে তবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।

এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাউনিং স্ট্রিট ইউরোপীয় সহযোগীদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা করছে, যা জন্য আর্কটিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সেনা প্রধানরা ন্যাটোর সম্ভাব্য একটি মিশনের পরিকল্পনা তৈরি করছেন, যা এই দ্বীপকে রক্ষা করবে, যেটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট দখল করার হুমকি দিয়েছেন।

ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সম্প্রতি জার্মানি এবং ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রস্তুতি শুরু করার জন্য।

তবে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, পরিকল্পনাগুলো এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গ্রিনল্যান্ডে ব্রিটিশ সৈন্য, যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে, যাতে রাশিয়া ও চীনের হুমকি রুখা যায়। ইউরোপীয় দেশগুলো আশা করছে, আর্কটিকে উপস্থিতি বাড়ালে ট্রাম্প দ্বীপটি দখলের ইচ্ছা ত্যাগ করবে।

এর আগে ট্রাম্প ডেনমার্ক দখলের হুমকি দেন। তিনি বলেন, যদি তিনি না নেন, তাহলে মস্কো বা বেইজিং দ্বীপটি দখল করতে পারে। আমরা রাশিয়া বা চীনের প্রতিবেশী হতে দিতে পারি না।

গ্রিনল্যান্ড প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ, যেমন তামা, নিকেল এবং আধুনিক প্রযুক্তি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিরল মাটির খনিজ।

সরকারি সূত্র বলেছে, কিয়ার স্টারমার এই অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের হুমকি ‘গুরুত্ব সহকারে’ নিয়েছেন এবং পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে একমত হয়েছেন।

সরকারি এক সূত্র টেলিগ্রাফকে বলেছে, আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতামতের সঙ্গে একমত। উত্তরাঞ্চলে রাশিয়ার উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন আগ্রাসনকে প্রতিহত করতে হবে এবং ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে হবে।

টেলিগ্রাফ আরও জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনাও করছে, যদি ট্রাম্প ন্যাটো মোতায়েনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

মেটা, গুগল, মাইক্রোসফট এবং এক্সের মতো প্রযুক্তি কোম্পানি ইউরোপে কার্যক্রম চালাতে অক্ষম হতে পারে, যেমনটি আমেরিকান ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া, আরও মারাত্মক বিকল্প সিদ্ধান্ত হতে পারে ইউরোপ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বহিষ্কার করা, যা মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য স্থানে অপারেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারে বাধা দেবে।

এর আগে আর্কটিক বা উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আগ্রাসন মোকাবিলায় একাট্টা হয়েছে ইউরোপের শীর্ষ শক্তিগুলো। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রপ্রধানরা এক যৌথ বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বর্তমানে ইউরোপের জন্য একটি মূল অগ্রাধিকার। এটি কেবল ইউরোপ নয়, বরং আন্তর্জাতিক এবং ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক জোট ন্যাটো ইতিমধ্যে এই অঞ্চলটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ইউরোপীয় মিত্ররা সেখানে তাদের কার্যক্রম ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে।

বিবৃতির সমাপনীতে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের অধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধানরা বলেন, গ্রিনল্যান্ড কেবল তার জনগণের। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার কেবল তাদেরই রয়েছে। এর মাধ্যমে বহিঃশক্তির যেকোনো হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টাকে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech