।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
চীনের পূর্বাঞ্চলের ঝেজিয়াং প্রদেশে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ আঘাত হেনেছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি বাভির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার বা প্রায় ৮৯ মাইল।
শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে টাইফুন বাভি চীনের উপকূলীয় শহর তাইজৌতে প্রথম আঘাত হানে। পরে মধ্যরাতের দিকে এটি ওয়েনঝৌ শহরে দ্বিতীয়বারের মতো স্থলভাগে প্রবেশ করে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, বাভি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার আশঙ্কায় শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির পূর্বাঞ্চলের বড় শহর ওয়েনঝৌ থেকে ৬ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর জিও নিউজের
চীনের প্রাদেশিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থার বরাতে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে টাইফুন বাভি চীনের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়টি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ ও তাইওয়ানে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিপাত ঘটায়।

এর আগে ঝড়টি তাইওয়ান ও জাপানের প্রত্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোতে তাণ্ডব চালায়। এতে গাছপালা উপড়ে যায় এবং কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল ঘেঁষে অতিক্রম করার ফলে সেখানেও ভারি বৃষ্টিপাত হয়।
ফিলিপিন্সে টাইফুন বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। শক্তিশালী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ফিলিপাইনে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে বাভির শক্তি কিছুটা কমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হলেও, এতে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্পের কারণে ভারি বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হবে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, রোববার সকালে টাইফুনটির কেন্দ্র ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংজৌ শহরে পৌঁছেছে।
গত এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বাভি চীনে আঘাত হানা দ্বিতীয় টাইফুন। এর আগে সপ্তাহান্তে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে টাইফুন ‘মায়সাক’ আঘাত হেনেছিল।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এর আগে বাভির কারণে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছিল। টাইফুন নিয়ে চার স্তরের সতর্কতা রয়েছে। এর মধ্যে এ সতর্কতা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে চীনে কয়েক শ উড়োজাহাজের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। কমিয়ে আনা হয়েছে ট্রেনযাত্রা। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থগিত হয়েছে বহু ফেরির যাত্রা।
তাইওয়ানে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টির জেরে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর। বিশেষ করে পিচ্ছিল সড়কে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন।
গতকাল সকালে তাইওয়ানে প্রায় ১৪ হাজার ২১০ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষত তাইচুং শহর ও হুয়ালিয়েন কাউন্টি থেকে লোকজনকে সরানো হয়েছে। তাইওয়ানজুড়ে স্কুল, অফিস ও বেশির ভাগ রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয়েছে।
যদিও ঠান্ডা সমুদ্রের ওপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ‘বাভি’র গতি ও শক্তি কিছুটা কমছে, তবুও এটি এখনও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ, এর বিশাল বৃষ্টির মেঘে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়েছে। পুরো বৃষ্টির বলয়টি আয়তনে প্রায় ফ্রান্সের সমান।