Breaking News:


শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি চীন সফরে গেছেন মির্জা ফখরুল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আগামীকাল থেকে শুরু এসএসসি পরীক্ষা : মানতে হবে যে ১৪ নির্দেশনা বগুড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়ে এনসিপি জুলাই শহীদদের সঙ্গে বেঈমানী করছে চুক্তি না হলে ইরানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিল ট্রাম্প জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে – বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই ইরানের সঙ্গে বৈঠক করতে পাকিস্তানে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল

জাতিসংঘে দাড়িয়েই জাতিসংঘ নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

  • ১০:১২ পিএম, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
জাতিসংঘের উদ্দেশ্যই বা কী? তিনি বলেন, তাদের যা করতে দেখা যায় তা হলো কেবল কড়া ভাষায় লেখা চিঠি পাঠানো। এসব ফাঁকা বুলি, আর ফাঁকা বুলি দিয়ে যুদ্ধ থামানো যায় না।

মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর (স্থানীয় সময়ে) উদ্বোধনী অধিবেশনে জাতিসংঘকে নিয়ে এমনি উপহাস করার পাশাপাশি সংস্থাটির বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করার অভিযোগ করেছেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন নিষ্ঠুরভাবে জাতিসংঘকে উপহাস করে তিনি সংস্থাটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ এনে এবং অবৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করার দাবি তুলে আক্রমণ করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে ফেরার সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ অভিবাসনের মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর এক ধরনের ‘আক্রমণ’ বাড়িয়ে তুলছে, যেসব দেশ তার ভাষায় ‘নরকে যাচ্ছে।

বৈশ্বিক ওই মঞ্চে তিনি একইভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমানোর প্রচেষ্টাকে আক্রমণ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ হলো ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতারণা- বলে অভিহিত করেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার জন্য বৈশ্বিক ওই সংস্থাকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভাঙা এসকেলেটর ও টেলিপ্রম্পটার নিয়েও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের কাছ থেকে আমি যে দুটি জিনিস পেয়েছি, তা হলো একটি ভাঙা এসকেলেটর এবং একটি খারাপ টেলিপ্রম্পটার।

ট্রাম্প তার ভাষণে সাতটি যুদ্ধ বন্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তবে দুটি বড় সংঘাতের সমাধানে কোনো সাফল্য পাননি বলে স্বীকার করেন তিনি। এই দুই সংঘাত হলো, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর শুরু হওয়া ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কয়েকটি দেশের ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘হামাসের নৃশংস কর্মকাণ্ডের পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ সময় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জিম্মিদের মুক্তি দিতে হামাসের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করায় ইউরোপীয় মিত্রদের পাশাপাশি চীন ও ভারতকে নিয়ে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাকে তুলনামূলক নরম সুরে কথা বলতে দেখা গেছে। যদিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে অনির্ধারিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বক্তৃতায় অভিবাসন ইস্যুতে সবচেয়ে কঠোর ভাষার ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। জাতিসংঘকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, এই সংস্থাটি ‘‘পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণে অর্থায়ন করছে।’’

ট্রাম্প বলেন, উন্মুক্ত সীমান্তের এই ব্যর্থ পরীক্ষা শেষ করার সময় এসেছে। আপনাদের দেশগুলো ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র সাদিক খানের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।

যা মূলত বৈশ্বিক বর্ণবাদ বিরোধী চেতনাকেই যেন প্রস্ফুটিত করে তোলে। ইসলামোফোবকে একপ্রকার উস্কে দেয়া বলেই মন্তব্য বিজ্ঞজনদের।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হয়েছে একের পর এক জাতীয়তাবাদী নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে; যা বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে।

বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সহায়তা হ্রাস বিশ্বের জন্য ধ্বংস ডেকে আনছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘‘আমরা কোন ধরনের বিশ্ব বেছে নেব? অপ্রচলিত শক্তির বিশ্ব, নাকি আইনের শাসনের বিশ্ব?

মঙ্গলবার অধিবেশনের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের সদর দপ্তর এবং আশপাশের এলাকা ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। এ সময় যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস বলেছে, তারা একটি ‘টেলিযোগাযোগ ষড়যন্ত্র’ ব্যর্থ করে দিয়েছে।

সিক্রেট সার্ভি বলেছে, ১ লাখেরও বেশি মোবাইল সিমকার্ড নিয়ে তৈরি একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জাতিসংঘের আশপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করার পরিকল্পনা ছিল। এতে একটি রাষ্ট্রের সমর্থিত কিছু গোষ্ঠী জড়িত ছিল।

সূত্র: এএফপি।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech