।।বিকে রিপোর্ট।।
আওয়ামী লীগ সরকারকে বৈধতা দেওয়ার যে দোষ জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াত সেই দোষের ভাগীদার- বলেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
শনিবার ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের হাওলাদার টাওয়ারে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যায়িত করে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবিসহ পাঁচ দাবিতে জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলনসহ সাতটি দল যুগপৎ আন্দোলনে নেমেছে।
এ অবস্থায় ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্তৃক জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের দাবি ও চলমান জাতীয় রাজনীতি সম্পর্কে জাতীয় পার্টির অবস্থান জাতির সামনে তুলে ধরতে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, আমরা আওয়ামী লীগের সহযোগে ছিলাম। আমরা সেখান থেকে সুবিধা পেয়েছি। এই কথাগুলো বলে আমাদেরকে জাতীয় যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চলছে, সেই প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার একটা চেষ্টা চলছে।
“যারা অভিযোগ দিচ্ছেন, তারা সেই অভিযোগের চেয়েও বড় বড় অভিযোগে অভিযুক্ত বলে আমি মনে করি।”
আনিসুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে আমরা আওয়ামী লীগের সহযোগী ছিলাম। আমরা সেখান থেকে সুবিধা পেয়েছি। এই কথাগুলো বলে জাতীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন রাখার একটা চেষ্টা চলছে। যারা অভিযোগ দিচ্ছেন, তারা সেই অভিযোগের চেয়েও বড় বড় অভিযোগে অভিযুক্ত বলে আমি মনে করি। আমাদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর উত্তর দেওয়ার সময় আমি মনে করি এখন এসেছে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ও পূর্বাপর বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ নানা দল অংশগ্রহণ করে ২০১৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারকে বৈধতা দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচিত সরকারের অধীনে আপনারা নির্বাচন করেছেন, আপনারা বৈধতা দিয়েছেন। ২০১৮ সালে কেন নির্বাচন করলেন তাদের অধীনে? সব পার্টি এবং বিএনপি থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছিল তারা তো পার্লামেন্ট বর্জন করেননি। দোষ শুধু আমাদের। যেই দোষ আমাদের ওপর দিচ্ছেন, সেই দোষের বড় ভাগীদার হচ্ছেন আপনারাও।
নির্বাচন যখন হয় তখন প্রত্যেকটা দল তার নির্বাচনি কৌশল ঠিক করে। কার সাথে আমি নির্বাচন করব? আজকে যারা মাঠে আছে যেসব রাজনৈতিক দল, তারা কি নির্বাচনের জোটে যাচ্ছেন না? নির্বাচনের জোট কি কেবল আপনার মতাদর্শের ভিত্তিতে হয়? জোট হয়? মতাদর্শের সঙ্গে আমার কৌশল কীভাবে আমি সবচেয়ে বেশি নির্বাচনি আসন জয়যুক্ত হতে পারব।
আনিসুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচিত সরকারের অধীনে ২০১৪ সালে নির্বাচন হয়েছিল, সে সময় সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বদলানো হয়েছে। তখন বিএনপি-জামায়াত ওই পার্লামেন্ট ছিল, কই তারা সেদিন পার্লামেন্ট থেকে রিজাইন দিয়ে বের হয় নাই। আর দোষ হয় জাতীয় পার্টির।
সংসদে বিএনপি-জামায়াতের উপস্থিতিতে সংশোধিত সংবিধানের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সেই ২০১৪ সালের নির্বাচিত সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন থেকে আরম্ভ করে উপজেলা, প্রত্যেকটা নির্বাচন আপনারা করেছেন। আপনারা প্রত্যেকেই করেছেন। তাহলে বৈধতা আমরা দিয়েছি ’১৪ সালের নির্বাচিত সরকারকে?
জাতীয় পার্টি সাংবিধানিক কারণে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বলে দাবি করেন আনিসুল ইসলাম। সংবিধানের ওই ধারা সংশোধনের সময় সংসদে বিএনপি-জামায়াতের এমপিরা থাকলেও প্রতিবাদে পদত্যাগ করেনি বলে জানান তিনি।
জাতীয় পার্টি কোনো বিপ্লবী পার্টি নয় দাবি করে তিনি বলেন, এরা বিপ্লব করে না, ভাঙচুর করে না। এরা নির্বাচন করে, সংসদে যায়। সংসদে গিয়ে যেই সরকার থাকে সেই সরকারের বিরোধিতা করে।
জামায়াত জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ চাওয়ায় অবাক হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কিন্তু কোনো দিন তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা বা পার্টি হিসেবে নিষিদ্ধ করা, এইটা কখনো বলিনি। কখনো এইটাকে আমরা সাপোর্টও করিনি।
বিলুপ্ত দ্বাদশ সংসদে চট্টগ্রাম-৫ আসনে জাতীয় পার্টির এই এমপি দাবি করেন, দলটিকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার প্রক্রিয়া নতুন নয়। কোনো দলকে বাদ দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে তা আগের বারের নির্বাচনের মতো একপেশে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কেউ প্রধান বিরোধী দল হতে চায়, কেউ সরকার গঠন করতে চায়, সেই অঙ্ক করে, জাতীয় পার্টির ওপর দায় চাপিয়ে দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারে মন্ত্রীর পদ পাওয়া জাতীয় পার্টির একাংশের এই নেতা বলেন, আপনারা মনে করছেন কোনোমতে একটি নির্বাচন হয়ে গেলে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আমরাও মনে করি, নির্বাচন ছাড়া কোনো সরকার গঠন করা যায় না। তবে নির্বাচনেই কি একমাত্র উত্তর? মুসোলিনি, হিটলার ওনাদের নির্বাচিত সরকার ছিল। তারা নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা ফ্যাসিবাদ করেছেন।
যেনতেন নির্বাচন হলে হবে না। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে হবে, নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে, নির্বাচন স্বচ্ছ হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা, মোস্তফা আল মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা, নাজমা আকতার, মাসরুর মওলা, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, আরিফুর রহমান খান, সরদার শাহজাহান, নূরুল ইসলাম মিলন, মোবারক হোসেন আজাদ, বেলাল হোসেন প্রমুখ।