গৃহস্থালির ব্যবহারের পানির জন্য মাটিতে পোঁতা একটি স্যালো টিউবওয়েল চাপলেই বের হচ্ছে গ্যাস।
ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ২ নাম্বার ওয়ার্ডের তুলাতুলি বাজার সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধের ২০ ফিট ভেতরে স্থানীয় জেলে জেবল হক মাঝির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ খবরে প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। আবার কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিতের চেষ্টাও করছেন। যা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেঘনা নদী তীরের বাসিন্দা জেবল হক মাঝির তিন ছেলের পরিবারের ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাড়ির উঠানের একপাশে একটি স্যালো টিউবওয়েল স্থাপন করেন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি)। ঠিকাদারের লোকজন ৬০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ বোরিং করে পানি উত্তোলনের চেষ্টা করেন। কিন্তু পানি না উঠে পাইপের ভেতর থেকে বুদবুদ শব্দ বের হতে থাকলে বিষয়টি তাদের সন্দেহ হয়। পরে টিউবওয়েলের মুখে আগুন দিলে তা মুহূর্তে জ্বলে উঠে এবং টিউবওয়েল চাপা অবস্থায় যতবার আগুন দেওয়া হয় ততবারই আগুন জ্বলে। এতেই তাদের ধারণা পানির সঙ্গে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। যা দেখতে দূরান্তের লোকজন এসে ভিড় জমাচ্ছে বাড়িটিতে।
ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জেবল হক মাঝি ও তার তিন ছেলে নদীতে মাছ ধরতে গেছেন। তবে কথা হয় জেবল হক মাঝির ছেলে মো.ইসমাইলের স্ত্রী রাবেয়া বেগমের সঙ্গে।
তিনি বলেন, আমার ভাসুর মো.খলিল, জলিল ও স্বামী ইসমাইল মিলে ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে টিউবওয়েলটি বসিয়েছেন। টিউবওয়েলটি বসানোর পুরো প্রক্রিয়া শেষে পানি উঠছিল না, পরে বিষয়টি শ্রমিকদের সন্দেহ হয়। তারা আমাদের বলেছে- একটা গ্যাসলাইট দেন। এরপর একজনে টিউবওয়েলে চাপ দিয়ে অন্যজন উপরের দিক দিয়ে গ্যাস লাইটের আগুন ধরালে টিউবওয়েলের ভেতর থেকে আগুন জ্বলে উঠে। রোববার বিকাল ৩টা থেকে এখনো একই অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি, শিগগিরই বাপেক্সকে অবহিত করব। অনেক সময় দেখা যায়, পকেট গ্যাস থাকে, বাস্তবে খনি নেই। বাস্তবিক অর্থে পুরো ভোলাটাই গ্যাসের উপরে ভাসমান, সব বিবেচনায় আমরা কাজ শুরু করব। এখানে যদি গ্যাসের বড় খনি পাওয়া যায় তাহলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।