।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান তীব্র সামরিক ও কূটনেতিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল নিশ্চিত করেছেন যে তিনি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর সাথে কথা বলেছেন।
অন্যদিকে কারাকাস মার্কিন হামলার প্রস্তুতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
রবিবার ৩০ নভেম্বর(স্থানীয় সময়) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে থ্যাঙ্কসগিভিং কাটিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরে আসার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে উত্তর হলো হ্যাঁ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এটা বলতে পারব না। ভালো হয়েছে বা খারাপ হয়েছে আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি বলব না এটা ভালো হয়েছে বা খারাপ হয়েছে। এটা শুধুই একটা ফোনালাপ ছিল।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশাল সামরিক বাহিনী গঠন, মাদুরোর পরিচালিত অভিযুক্ত একটি মাদক কার্টেলকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা “বন্ধ” থাকার অশুভ সতর্কবার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ওয়াশিংটন বলছে, গত সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া সামরিক মোতায়েনের লক্ষ্য হল এই অঞ্চলে মাদক পাচার রোধ করা। যদিও কারাকাস বলেছে, ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য।
গত শুক্রবার ২৮ নভেম্বর মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাথে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
প্রতিবেদন মতে, এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয় গত সপ্তাহে। এ সময় দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা করেন, যদিও কোনো পরিকল্পনা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, আমরা ভেনেজুয়েলাকে খুব বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ বলে মনে করি না। তারা লাখ লাখ মানুষ পাঠিয়েছে, যাদের অনেকেরই আমাদের দেশে থাকার কথা নয় জেল থেকে, গ্যাং থেকে, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে,সব জায়গা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ এসেছে।
ভেনেজুয়েলার প্রয়াত বামপন্থী নেতা হুগো শ্যাভেজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী মাদুরোকে ‘কার্টেল অফ দ্য সানস’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে এবং তাকে ধরার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হুমকির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভান্ডার দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে কারাকাস। ওপেকের ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অভিযোগ তুলেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী রদ্রিগেজ পড়ে শোনান দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরোর চিঠি। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র লেথাল মিলিটারি ফোর্স ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভান্ডার দখলের চেষ্টা করছে।
এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভারসাম্য এবং উৎপাদনের স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করবে বলে সকর্ত করা হয়। রদ্রিগেজ সাফ জানান, ভেনেজুয়েলা নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কোনো হুমকি মানবে না।
ভেনেজুয়েলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নতুন মোড় নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবিয়ানে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এছাড়া মাদক পাচার বন্ধ করতে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিতও দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলা বিপজ্জনক অপরাধীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে, তাই প্রয়োজনে সব বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে মাদুরো সরকার। ভেনেজুয়েলার সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করলে এর প্রতিক্রিয়া গুরুতর হবে বলেও সতর্ক করেছেন মাদুরো।