।।বিকে রিপোর্ট।।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, টানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে চলছে ভোটগ্রহণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৮টার দিকে ডাকসুর ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে থেকেই কেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের লম্বা লাইনে এক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্র ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোটারদের প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা গেছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার মুখগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের সঙ্গে পুলিশও রয়েছে
ভোট দেওয়ার সঠিক নিয়ম
ভোটার তার সুবিধাজনক সময়ে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ভোটকেন্দ্রে থাকা পোলিং কর্মকর্তাকে ভোটার তার পরিচয় নিশ্চিত করবেন।
ভোটার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হলে তার লাইব্রেরি কার্ড অথবা পে-ইন স্লিপ দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবেন। অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা হল আইডি কার্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি কার্ড দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবেন।
পরিচয় নিশ্চিতের পর ভোটারের আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। ভোটার তালিকায় নিজের নামের পাশে সই করবেন ভোটার। এরপর পোলিং কর্মকর্তাকে ভোটার নম্বর জানাতে হবে।
ব্যালট নিয়ে ভোটার প্রবেশ করবেন গোপন ভোটকক্ষে। মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিয়ে ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না।
ভোটকক্ষে গিয়ে ব্যালট পেপার থেকে পছন্দের প্রার্থীর নাম ও ব্যালট নম্বর খুঁজে বের করবেন ভোটার। এরপর পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশের ঘরে স্পষ্টভাবে ‘ক্রস চিহ্ন’ দেবেন ভোটার।
খেয়াল রাখতে হবে, ক্রস চিহ্ন যেন ঘরের বাইরে না যায়। ঘরের বাইরে গেলে সেই ভোট বাতিল হতে পারে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদান শেষে ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার জমা দেবেন ভোটার।
কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের জন্য দুটি আলাদা ব্যালট বক্স থাকবে। ব্যালট পেপার ‘ভাঁজ’ না করে সেগুলো নির্ধারিত বাক্সে ফেলে ভোটার তার ভোটদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থীর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং ব্রেইল পড়তে পারেন, তাদের জন্য প্রথমবারের মতো ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে যারা ব্রেইল পড়তে পারেন না, তারা আরেকজনের সহযোগিতা নিয়ে অন্য সবার মতোই ভোট দিতে পারবেন।
ব্রেইল পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক শারমীন কবীর।
ভোটের জন্য লাইনে দাঁড়ানো একজন ছাত্রী বলেন, ‘অনেকদিন পর ডাকসুর ভোট হচ্ছে। আমি জীবনে প্রথমবার এখানে ভোট দিচ্ছি। তাই অনেক উৎসাহ নিয়ে সকাল সকাল বাসা থেকে চলে এসেছি। কিন্তু এসেই পড়েছি দীর্ঘ লাইনে।’
এদিকে ইউনিভারসিটি ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এক ভোটার বললেন, ‘অনেকগুলো ভোট দিতে হচ্ছে। শুধু ভোট দিতেই প্রায় সাত মিনিট লাগল। এছাড়া কেন্দ্রের ভেতরে ঢোকার পর কিছু আনুষ্ঠানিকতা ও শনাক্তকরণের বিষয় রয়েছে।’
আনুষ্ঠানিকতা ও শনাক্তকরণের বিষয়ে এক ছাত্রী বলেন, ‘ঢোকার পর পরিচয়পত্রের নম্বর ধরে একটি শিটে স্বাক্ষর করতে হয়। এরপর আমাকে দুটো ব্যালট পেপার দেওয়া হয়। একটি কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য, আরেকটি হল সংসদের জন্য। ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীদের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ মিনিট সময় লেগেছে।’
প্রসঙ্গত, ৬ বছর পর আজ মঙ্গলবার আয়োজিত ডাকসু ও হল সংসদের এই নির্বাচনে নিজেদের রায় দেবেন প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৮১০টি বুথে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী। অন্তত ১০টি প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র হিসেবেও লড়ছেন অনেকে।
এর আগে সকাল পৌনে ৮টায় সাংবাদিকদের সামনে ভোটের বাক্স সিলগালা করা হয়। পরে ৮টা ৭ মিনিট থেকে এই কেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এরপর ৮টা ১০ মিনিট থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।