Breaking News:


শিরোনাম :
প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প গ্রহণ সরকারের সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু কাঁটাতার দিয়ে কারও সাথে বন্ধুত্ব করা যায় না চীন সফরে গেলেন ট্রাম্প মিরপুর চেস্টে পাকিস্তানকে উড়িয়ে ১-০তে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ বাংলাদেশ-জাপান বিজনেস সেমিনার: বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরলেন রাষ্ট্রদূত ঈদুল আজহা : অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, ২৩ মে’র টিকিট বিক্রি হচ্ছে আজ ভারতীয় নিম্নমানের বীজে পথে বসেছেন শত শত প্রান্তিক পেঁয়াজচাষি ঈদুল আজহা ঘিরে দেশব্যাপী থাকবে কঠোর নিরাপত্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের শ্বেতপত্র প্রকাশ

  • ১২:০৫ পিএম, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
ছবি: বিকে

।।বিকে রিপোর্ট।।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বিগত ১৫ বছরের সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

হোয়াইট পেপার অন বাংলাদেশ ক্রাইসিস: আনফুলফিল্ড প্রমিসেজ, স্ট্যাটেটিক নেগলেক্ট এন্ড গভর্নেন্স ব্রেকডাউন শিরোনামে ৩ হাজার ২৭২ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে (পিটিডি) বিষয়সমূহ পর্যালোচনা এবং বিশ্লেষণের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা স্থান পেয়েছে।

সোমবার ৫ জানুয়ারি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওয়েবসাইটে (ptd.gov.bd) এটি প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, শ্বেতপত্রে গত দেড় দশকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাঠামোগত সমস্যার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এমন অবস্থায় সরকারের প্রত্যাশা, এই শ্বেতপত্র টেলিযোগাযোগ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ছোট ছোট লাইসেন্স, বহুস্তরীয় অনুমোদনব্যবস্থা ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণের কারণে টেলিযোগাযোগ খাতে একটি জটিল এবং অকার্যকর বাজারকাঠামো তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা নিশ্চিত হয়নি।

নীতিনির্ধারণে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলানো যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে শ্বেতপত্রে। মূল্যকেন্দ্রিক স্পেকট্রাম নীতি, অবকাঠামো শেয়ারিংয়ে দেরি ও ইন্টারনেটবিষয়ক কঠোর নিয়মের কারণে ফাইভ-জিসহ কিছু আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।

শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, আমদানিপ্রক্রিয়া, অনুমোদন, কর—প্রতিটি ধাপেই অদক্ষতার কারণে ডেটাসেবার প্রকৃত খরচ বেড়েছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের ওপর। শহরের তুলনায় সেখানে সেবার মান কম হলেও খরচ তুলনামূলক বেশি।

অভিযোগব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে গ্রাহক অসন্তোষ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। শ্বেতপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ এই ব্যবস্থাগত দুর্বলতার বোঝা সরাসরি বহন করছে।

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্স গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতে বিগত ১৫ বছরে দুর্নীতি ও অনিয়ম বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন করা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই শ্বেতপত্র টেলিযোগাযোগ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। টাস্কফোর্স কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান। কমিটির সদস্য ছিলেন অধ্যাপক ড. মুছাবের উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, অধ্যাপক ড. লুতফা আক্তার, টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এখলাস উদ্দিন আহমেদ, প্রযুক্তিবিদ ফিদা হক ও এজাহার উদ্দিন অনিক।

এই টাস্কফোর্সকে কার্যক্রম শুরুর তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরে সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়। অবশেষে আট মাস পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ পেল।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech