।।বিকে ডেস্ক।।
জ্যৈষ্ঠের শেষ সময়ে এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মৃদু থেকে মাঝারী তাপপ্রবাহ আর সেই সঙ্গে বাতাসে অস্বাভাবিক আর্দ্রতা যোগ হওয়ায় অনুভূত হচ্ছে অসহ্য গরম।
গতকাল দেশের ৩৮টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এই তাপপ্রবাহ। ফলে মানুষের মধ্যে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, খিঁচুনি ও হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ০৩ জুন দেশের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ ডিগ্রি এবং নাটোরের লালপুরে ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলাসহ রাজশাহী বিভাগের আটটি, রংপুর বিভাগের আটটি এবং খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরেই জেলার তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বাতাসে আর্দ্রতার ওঠানামার কারণে ভ্যাপসা গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
নাটোরের লালপুরে বুধবার মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মঙ্গলবার ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং সোমবার ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃহস্পতিবারও (০৪ জুন) তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে শুক্রবার (০৫ জুন) থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছালে হিটস্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক, প্রসূতি, শ্রমজীবী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
আইসিডিডিআরবির তথ্য অনুযায়ী, পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা যখন ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায় এবং এই অবস্থা টানা দুদিনের বেশি স্থায়ী হয়, তখন সেই তাপপ্রবাহকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী,
আজ বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া চলমান তাপপ্রবাহ কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, এখন যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তাতে মৌসুমি বায়ু প্রবেশে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। এবার বেশ দেরি হচ্ছে এ বায়ু প্রবেশে। বায়ু প্রবেশের আরও তিন থেকে চার দিন পর দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়তে পারে। তবে আগামীকাল নাগাদ তাপপ্রবাহের বিস্তার কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।