।। বিকে ডেস্ক ।।
নড়াইলের সদর উপজেলায় তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার ২৮ মার্চ গভীর রাতে উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের রেল ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ সরদার সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লি গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তার বন্ধু জিহাদুল মোল্যা তুলারামপুর এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লি গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান নাহিদ সরদার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ট্রাকচালক সুজাত ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকেে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
পাম্পের কর্মচারী মো. সোহান ইসলাম বলেন, নাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে ওই ট্রাকচালকের তেল নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। সে নাহিদ ভাইকে ট্রাকচাপার হুমকি দিয়ে পাম্পেই অবস্থান করছিল। পরে নাহিদ ভাই পাম্পের কাজ সেরে রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটের দিকে তার ভাইয়ের বন্ধু জিহাদুল ইসলামকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। এসময় সুজাত ট্রাক ঘুরিয়ে তার পেছনে রওনা দেয়। এ নিয়ে আমাদের সন্দেহ হলে আমি আর ক্যাশিয়ার জসিমউদ্দীন ভাই আমাদের মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাকের পেছনে যাই, গিয়ে দেখি সুজাত নাহিদ ভাইকে চাপা দিয়ে ট্রাক নিয়ে চলে যাচ্ছে। নাহিদ ভাই ঘটনাস্থলে নিহত হয় এবং জিহাদুল ভাই গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিহাদুল ভাইকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন।
এ ব্যাপারে নড়াইলের তুলারামপুর হাইওয়ে থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ সেকেন্দার আলী মুঠোফোনে বলেন, নাহিদের মরদেহ উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত নাহিদ সর্দারের চাচাতো ভাই মঞ্জুর সর্দার বলেন, ট্রাক ড্রাইভার সুজাত পরিকল্পিতভাবে হুমকি দিয়ে আমার ভাইকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।