শিরোনাম :
জলুবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে আলোচনা মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাংচুর: দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৯ সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলারের ঋণ দিচ্ছে এডিবি জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই লংমার্চে সাফল্য দাবি, অন্য বিভাগেও নজর ১১ দলের নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে ঘূর্ণিঝড়-বন্যা : জরুরি অবস্থা জারি বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের আর কোনো ঠাঁই নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান: আটক ২৫৪ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, ঢাকায় বাড়তে পারে গরম আগস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি

দুই লংমার্চে সাফল্য দাবি, অন্য বিভাগেও নজর ১১ দলের

  • ১২:২০ পিএম, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে পরপর দুই লংমার্চের পর কর্মসূচির পরিসর আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

নতুন করে রাজশাহী ও বরিশালে লংমার্চের প্রস্তাব এসেছে জোটের স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে। এ নিয়ে লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বঘোষিত সিলেট অভিমুখে ট্রেনে লংমার্চের সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে জোট। দুই কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেই দেশের আরও বিভাগে লংমার্চ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের মধ্য দিয়ে ১১ দলের ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ। জোটের নেতাদের দাবি, দুই কর্মসূচিতেই নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। তাদের মতে, এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দাবিগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই রাজশাহী ও বরিশালে নতুন কর্মসূচির প্রস্তাব এসেছে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। জোটের নেতাদের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

জোটের নেতারা বলছেন, লংমার্চের উদ্দেশ্য কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দাবি তুলে ধরা নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে দাবিগুলো পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয় সমস্যাকে জাতীয় আলোচনায় আনা এবং সংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ানোও অন্যতম লক্ষ্য। তাদের মতে, ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের দাবি এবং অন্যান্য জাতীয় ইস্যুকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে আন্দোলনের সাংগঠনিক ভিত্তিও আরও বিস্তৃত হবে।

লংমার্চগুলোতে জাতীয় দাবির পাশাপাশি আঞ্চলিক সমস্যাকেও সামনে এনেছে ১১ দল। চট্টগ্রামের কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবি জানানো হয়। পরে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিও যুক্ত হয়। রংপুরের লংমার্চে এসব দাবির সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আসে। রাজশাহী ও বরিশালে কর্মসূচি হলে সেসব অঞ্চলের

স্থানীয় সমস্যাও দাবির তালিকায় যুক্ত হতে পারে। তবে ময়মনসিংহে আলাদা লংমার্চের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জোটের নেতাদের ভাষ্য, ঢাকার সঙ্গে ময়মনসিংহের দূরত্ব তুলনামূলক কম। এ ছাড়া অন্য বিভাগের লংমার্চের রুটেও ময়মনসিংহের কিছু এলাকা যুক্ত হচ্ছে। ফলে আপাতত এ বিভাগে আলাদা কর্মসূচির প্রয়োজন দেখছেন না তারা।

বিভাগভিত্তিক লংমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে জোটের। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নভেম্বরের পরিবর্তে মহাসমাবেশ ডিসেম্বরে হতে পারে। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তার আগে রাজশাহী ও বরিশালের প্রস্তাবের নিষ্পত্তি এবং সিলেটের লংমার্চের ধরন চূড়ান্ত করতে চায় জোট। ফলে চট্টগ্রাম ও রংপুর দিয়ে শুরু হওয়া লংমার্চ এখন ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছে।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনায় এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ হবে। আর ঢাকা মহাসমাবেশ হবে আগামী ১৪ নভেম্বর। খুলনা বিভাগের কর্মসূচির সমাপনী কুষ্টিয়ায় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সিলেটের কর্মসূচির ধরন নিয়ে নতুন করে ভাবছে জোট। সিলেট বিভাগের সড়ক যোগাযোগের বেহাল দশা বিবেচনায় ট্রেনে লংমার্চের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রেলস্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় পথসভা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন নেতারা। তবে একই সময়ে ট্রেনে নিয়মিত যাত্রী পরিবহনও চলবে। লংমার্চে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতের সঙ্গে সাধারণ যাত্রী পরিবহনের সমন্বয় নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ট্রেনে লংমার্চের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে কিনা, তা নিয়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, লংমার্চের উদ্দেশ্য শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দাবি তুলে ধরা নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে দাবিগুলো পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সমস্যাকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে আনা। ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের দাবিকে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চান তারা।

উসকানি ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে ১১ দলের লংমার্চের গণজোয়ার আটকাতে পারবে না, লংমার্চের ব্যপ্তি বাড়বে বলে আমাদের সময়কে জানান এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তবে লংমার্চে নতুন করে কোনো বিভাগ যুক্ত হচ্ছে কিনা এখনও বলতে পারছি না। আশাবাদী নতুন বিভাগ যুক্তের বিষয়ে।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ আমাদের সময়কে বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে লংমার্চের ব্যাপ্তি বাড়ানোর তাগাদা রয়েছে। সিলেটের সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রেনে লংমার্চের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রেলস্টেশনের কাছাকাছি পথসভা করার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে জনভোগান্তি কমে। কিন্তু সাধারণ যাত্রী পরিবহনও চলবে। এতে কোনো জটিলতা তৈরির বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। একই বৈঠকে রাজশাহী ও বরিশালের লংমার্চের প্রস্তাবও চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে সূদ্র- আ/স

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech