।।বিকে রিপোর্ট।।
জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন- বলে জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, দায়িত্বে থাকা দেড় লাখ পুলিশ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিলে দেশের ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন।
রবিবার ১৮ জানুয়ারি সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবে না। একই সঙ্গে কোনো প্রার্থীর প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবারও গ্রহণ করতে পারবে না। দায়িত্বে থাকা দেড় লাখ পুলিশ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিলে দেশের ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১ লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবেশী দেশের সীমান্তগুলো থেকে অস্ত্র এলেও সেগুলো উদ্ধার করা হচ্ছে। জঙ্গিবাদ এখন নাই বললেই চলে। ফ্যাসিস্ট জঙ্গি রয়েছে তবে তারা অন্যান্য দেশে অবস্থান করছে। এসব ফ্যাসিস্ট জঙ্গিগুলোকে ফেরত এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ তওফিক মাহবুব চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।
কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএস ব্যাচের একজন, ৩৫তম বিসিএসের তিনজন, ৩৬ তম বিসিএসের একজন, ৩৭তম বিসিএসের দুইজন এবং ৪০তম বিসিএসের দুইজন প্রশিক্ষণার্থী সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন।