।।বিকে রিপোর্ট।।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এখন ঢাকায়।
শনিবার ২৩ আগস্ট দুপুরে পাকিস্তানের বিশেষ একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
জানা গেছে, সফরে দুদেশের মধ্যে কূটনীতিক ও সরকারি পাসপোর্টে বিনা ভিসায় যাতায়াতের বিষয়ে চুক্তি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা, ফরেন সার্ভিস একাডেমি ও কৌশলগত বিষয়ে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, আগামীকাল রোববার সকালে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এর আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই বৈঠক শেষে বাণিজ্য, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে।
বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন।
এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানেরও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে সন্ধ্যায় দার ও খান উভয়েই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে আগে সই হওয়া একটি চুক্তি নবায়ন করা হবে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, স্বাধীনতা-পূর্ব অভিন্ন সম্পদে বাংলাদেশের অংশ হস্তান্তর ও আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ফেরত নেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় আসবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে মন্ত্রিপর্যায়ের সর্বশেষ সফর হয়েছিল ২০১২ সালের নভেম্বরে। সে সময় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ঢাকায় এসে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইসলামাবাদে ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
গত বছর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে।
ইতোমধ্যে দুই দেশ সরাসরি মালবাহী জাহাজ পরিবহন সেবা চালু করেছে। ভিসা ও বাণিজ্য ব্যবস্থা সহজ করেছে এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানি বিমান সংস্থা ‘ফ্লাই জিন্নাহ’ ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন পেয়েছে। একইসঙ্গে আরেকটি বিমান সংস্থা ‘এয়ার সিয়াল’ও এই রুটে যাত্রী পরিবহনের অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে।