।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের বিচারের জন্য নবগঠিত বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল বাতিল করতে আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বুধবার ১৩ মে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান।
বিশেষ এই আদালতে হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার সময় বা পরে আটক ব্যক্তিদের বিচার করা হবে। একই সঙ্গে গাজায় জিম্মিদের আটকে রাখা বা নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তদেরও এ আদালতে বিচার করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিচারের জন্য ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) একটি বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের আইন পাস করেছে। গত সোমবার ১২ মে ২০২৬-এ নেসেটে এই আইনটি বিশাল ব্যবধানে (৯৩-০ ভোটে) পাস হয়।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের আওতায় আনা।
ট্রাইব্যুনালের আওতা: এই বিশেষ আদালত মূলত ৭ অক্টোবরের হামলায় অভিযুক্ত প্রায় ২০০-৩০০ ফিলিস্তিনি যোদ্ধার (যাদের ‘নুখবা’ ফোর্স বলা হয়) বিচার করবে। আসামিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের ক্ষতি, যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে সহায়তা এবং সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হবে। নতুন এই আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান এই বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, এই ভয়াবহ হামলাগুলোর পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে না— এমন বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এই আইন অবশ্যই বাতিল করতে হবে।
তার ভাষায়, এই আইন অনিবার্যভাবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে একপেশে বিচার ও বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। এটি কারও স্বার্থে নয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও পরিপন্থী।
এএফপির সরকারি তথ্যভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, হামাসের ওই হামলায় ইসরাইলি পক্ষে ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। এটি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন হিসেবে বিবেচিত।
যোদ্ধারা ২৫১ জনকে জিম্মিও করে নিয়ে যায়, যাদের মধ্যে ৪৪ জন তখনই নিহত ছিলেন।
এর জবাবে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে গাজা উপত্যকা ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং হামাস-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।