Breaking News:


পাকিস্তানে ট্রেন যাত্রীদের জিম্মি: অভিযানে ২০ সেনা নিহত, আকাশ থেকে চলছে ড্রোন হামলা – ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুমকি বিএলএ’র

  • ০৯:৫৯ পিএম, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ‘জাফর এক্সপ্রেস’ নামে একটি ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করেছে বেলুচ লিবারেশন আর্মির সশস্ত্র জঙ্গীরা। জিম্মিদের উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০ সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছেন তারা।

মঙ্গলবার ১১ মার্চ বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পেশোয়ারে যাওয়ার পথে ৪৫০ জন যাত্রী সহ সশস্ত্র জঙ্গীদের হামলার কবলে পড়ে ট্রেনের যাত্রীরা। তাদের দাবি, প্রতিরোধের মুখে স্থল সেনা সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

তবে আকাশ থেকে ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে হামলা অব্যাহত আছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, সেখানে জঙ্গি ও সেনাদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই হচ্ছে। এরমধ্যে ওই অঞ্চলে উদ্ধারকারীদের পাঠানো হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো হতাহতের তথ্য জানায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার ১১ মার্চ সকালে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে চলন্ত একটি ট্রেনে হামলা চালিয়ে ৪৫০ জনের বেশি যাত্রীকে জিম্মি করেছে জঙ্গিরা। জঙ্গিদের গুলিতে ট্রেনের চালক ও কয়েকজন যাত্রী আহত হন। পরে সশস্ত্র হামলাকারীরা ট্রেনে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার জ্যেষ্ঠ রেলওয়ে কর্মকর্তা মুহাম্মদ কাশিফ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘‘বন্দুকধারীরা চলন্ত ট্রেনটির ৪৫০ জনেরও বেশি যাত্রীকে জিম্মি করেছে।

পাকিস্তানের রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাফর এক্সপ্রেস নামের ওই ট্রেনের ৯টি বগিতে ৪৫০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। এটি বেলুচিস্তানের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পেশোয়ারের উদ্দেশে যাওয়ার পথে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলার শিকার হয়।

পরে বেলুচ লিবারেশন আর্মি জানিয়েছেন, তারা নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের ছেড়ে দিয়েছে। এখন তাদের জিম্মায় ১৮২ জন আটক রয়েছে। যার মধ্যে সেনা, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে।

পাক সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, সেখানে জঙ্গি ও সেনাদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে ওই অঞ্চলে উদ্ধারকারীদের পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে বেলুচ সন্ত্রাসীরা। তারা বলেছে, যদি ড্রোন/হেলিকপ্টার থেকে হামলা বন্ধ না করা হয় তাহলে এক ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মিকে হত্যা করা হবে। এবং তাদের উদ্ধারের কোনো প্রচেষ্টা নেওয়া হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

সাংবাদিকদের ইমেইল এবং টেলিগ্রামে এক পোস্ট করে এ তথ্য জানিয়েছে বিএলএ।

এ ব্যাপারে জঙ্গি গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ হুমকি দিয়ে বলেছেন, যদি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা পুলিশ কোনো ধরনের অভিযান চালানোর চেষ্টা করে তাহলে ১০০ জনেরও বেশি জিম্মি সবাইকে হত্যা করা হবে।

এর আগে এক বিবৃতিতে জিয়ান্দ বেলুচ বলেন, যে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানের জবাব সমান শক্তিতে দেওয়া হবে।” এছাড়া তিনি ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করার তথ্য স্বীকার করেন।

বেলুচিস্তানের রেলওয়ে বিভাগের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বেলুচিস্তানের বোলান জেলার মুশকাফ এলাকায় ট্রেনটিতে হামলা হয়েছে। ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছেছেন। এলাকাটি পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় সেখানে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সেখানে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন যাচ্ছে। এতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

বেলুচিস্তানের সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধারে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যে এলাকায় ট্রেনটি থামানো হয়েছে, সেটি পার্বত্য এলাকা হওয়ায় জঙ্গিদের জন্য আস্তানা গড়ে তোলা এবং হামলার পরিকল্পনা করা সহজ হয়েছে।

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে কয়েক দশক ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সম্প্রতি তারা প্রদেশজুড়ে বেশ কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

(বিএলএ) ট্রেন হামলার দায়ও স্বীকার করেছে।

গত নভেম্বরে, বেলুচিস্তানের একটি রেলওয়ে স্টেশনে পাকিস্তানি সৈন্যদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল এই গোষ্ঠীর সদস্যরা। ওই হামলায় বেসামরিক পোশাক পরিহিত ১৯ সৈন্যসহ অন্তত ২৭ জন নিহত হন। সৈন্যরা ছুটিতে বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনে ওঠার কয়েক মিনিট আগেই হামলার শিকার হন।

বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানের খনিজসমৃদ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। স্বাধীন বেলুচিস্তানের দাবিতে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রদেশে সোনা ও তামার খনির পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোয়াদর বন্দর রয়েছে, যেখানে চীনের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে।

তাদের উদ্ধারের কোনো প্রচেষ্টা নেওয়া হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। সাংবাদিকদের ইমেইল এবং টেলিগ্রামে এক পোস্ট করে এ তথ্য জানিয়েছে বিএলএ।

সূত্র” এএফপি/রয়টার্স/ডন

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech