Breaking News:


শিরোনাম :
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন এমডি বাছির জামাল, এম আবদুল্লাহর নিয়োগ বাতিল আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে : সব বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস নেতানিয়াহু মৃত্যুর খবর, যা জানাল ইসরাইলি মিডিয়া ৫ বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারে পৌঁছাবে ফ্যামিলি কার্ড : প্রধানমন্ত্রী সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি, পদ হারালেন জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা জ্বালানিতে সংকট নেই, তাই দামও বাড়াবে না: প্রতিমন্ত্রী সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি চেম্বার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান, আটক-১৫ খুব শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প ভোটের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, সবকিছু স্পষ্টঃ জামাতের আমির

পাহাড়ি ঢল আর ভারীবৃষ্টিতে সিলেটে বন্যার আশঙ্কা

  • ০৮:২৮ পিএম, শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫
ছবি: আজকের সিলেটের সৌজন্যে

।।বিকে রিপোর্ট।।
ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সিলেটে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সুরমা-কুশিয়ারাসহ আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানি বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ঢলের কারণে সড়কে উপচে পড়েছে পানি। একই সঙ্গে ভারী বর্ষণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সেই সঙ্গে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

শনিবার ৩১ মে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেটে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গোয়াইনঘাট-রাধানগর উপজেলা সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে, আজ শনিবার দুপুর থেকে টানা বৃষ্টিতে সিলেট নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে সিলেট নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা ও বাসাবাড়ির আঙিনা তলিয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও সেবা প্রত্যাশীরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর পানি কানিশাইল পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৯ সেন্টিমিটার নিচে, আর কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

জেলার কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমার পানি আজ বিকেল তিনটা পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৬৬ মিটার। এই পয়েন্টে ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পানি প্রবাহ ছিল ৮ দশমিক ২৯ মিটার। দুই দিনে বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৭ মিটার। বর্তমানে বিপৎসীমার এক দশমিক ৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে জকিগঞ্জ, বালাগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও বিশ্বনাথ উপজেলার অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। সাদা পাথর, জাফলংসহ সীমান্তবর্তী পর্যটনস্পট পানিতে তলিয়ে গেছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাঁধন কান্তি সরকার বলেন, ‘নদ-নদীর পানি বাড়লেও আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির কোনও আশঙ্কা নেই।  উপজেলার নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হয়ে স্বল্প মেয়াদে বন্যা হতে পারে। বন্যা পরিস্থিতির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।’

জাফলং পর্যটনস্পটের ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি শাহাদাৎ হোসেন জানান, জাফলংয়ে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে এবং নদীর পানি বাড়ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পর্যটকদের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। খোলা হয়েছে একটি বিশেষ জরুরি কন্ট্রোল রুম। সিসিক সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশন ভবনের দ্বিতীয় তলায় (কক্ষ নম্বর ২০৫) কন্ট্রোল রুমটি স্থাপন করা হয়েছে।

জরুরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আকবর, যোগাযোগ: ০১৭১১৯০৬৬৪৭, সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, মোবাইল: ০১৭১৩৩১১৫২৬, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, মোবাইল: ০১৭৬৯০০৫৮৫৬ সিসিকের এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে পরিস্থিতি সরাসরি পরিদর্শন করবেন এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সিলেটে ভারী বর্ষণ ও দমকা হওয়া অব্যাহত রয়েছে। আগামী তিন দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

এদিকে, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১০ মিলিমিটার এবং এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেদেশের আবহাওয়া অফিস বৃষ্টিপাতের এই তথ্য রেকর্ড করেছে। ফলে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটের সকল নদ-নদীতে পানি বাড়ছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech