।।বিকে রিপোর্ট।।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির সাক্ষাতের তারিখ নির্ধারিত ১৬ এপ্রিল।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দুপুর ১২টায় প্রতিনিধি দলকে সাক্ষাতের শিডিউল দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
বুধবার ৯ এপ্রিল দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে
১৬ এপ্রিল দুপুরে বিএনপিকে সময় দেওয়ার কথা জানানো হয়।
এর আগে আগামী নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মনোভাব জানতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চায় বিএনপি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিএনপিকে সময় দেন প্রধান উপদেষ্টা।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটাতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা জরুরি।
বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৬ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নেতৃত্বে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়। বিএনপি এই সাক্ষাতে সরকারের কাছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার কথা বলবে। একই সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কারগুলো অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার বিষয়টি তুলে ধরবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, বিএনপির তো ইতোমধ্যে বদনাম হয়ে গেছে যে, আমরা সংস্কার চাই না শুধু নির্বাচন চাই। কিন্তু আমরা সবসময় বলে আসছি নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য। বাকি সংস্কারগুলো নির্বাচিত সরকার সংসদে গিয়ে করবে। আমরা কখনও বলি নাই যে সংস্কার করব না। কিন্তু ধর্মভিত্তিক একটি দলসহ কয়েকটি গোষ্ঠী বিএনপির বিরুদ্ধে অপ্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচনকে পেছানোর ষড়যন্ত্র করছে। যার কারণে আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে সরকারের প্রতি বিএনপির এখনো যে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে— সেটি তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আমরা অনুরোধ জানাব। নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটাতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা জরুরি।
বিএনপির সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রে ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্ব পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বাবস্থা বহাল চায়। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের বিষয়ে কোনো প্রস্তাবনা দেয়নি। এ নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাবনার পক্ষে নয় বিএনপি, দাবি করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।