।।বিকে রিপোর্ট।।
ফেনীতে গত দুদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজানের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। মুহুরী নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে ফুলগাজী বাজারের আংশিক অংশ। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বন্যা আতঙ্ক।
বুধবার ১ অক্টোবর সকাল থেকে তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে একাধিক স্থানে বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এরই মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। পানিসম্পদ উপদেষ্টাসহ সংস্থাটির দপ্তরের সচিব, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা বাঁধ ভাঙন স্থান পরিদর্শন করে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রতি বছরের মতো এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল দুপুর থেকে ফুলগাজী পুরাতন পশুর হাট-সংলগ্ন স্লুইস গেট দিয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের আংশিক অংশ ও বেশকিছু দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। আজ সকাল থেকে পানি কিছুটা কমলেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ব্যবসায়ীদের মাঝে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০টি বাঁধ মেরামত করেছেন। তবুও শঙ্কা কাটছে না মানুষের।
একই সঙ্গে ৭০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতের উজানের পানিতে গতকাল থেকে নদীর পানি বাড়লেও এখন ধীরে ধীরে কমছে। বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটারের মধ্যে দুপুর ২টার দিকে নদীর পানি ১০ দশমিক ২৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

জহিরুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নদীর পানি কমেছে। তবে ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টি হলে আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙনের শঙ্কা রয়েছে। এখনো থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কখন কি হয় তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না।
এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। যার প্রভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, ফেনী, লালমনিরহাট, নীলফামারী, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফাহাদ্দিস হোসাইন বলেন, ফুলগাজী পুরাতন পশুর হাট-সংলগ্ন স্লুইস গেটের স্থানটি ইতোপূর্বে সংস্কার করা হয়েছিল। তবে সেখানে ময়লা ফেলে সংস্কার করা স্থানটি আবারও নষ্ট করে ফেলেছে। এখানে ব্যবসায়ীদের দায় রয়েছে। তবে নদীর পানি কমলে বাঁধে ভাঙনের শঙ্কা নেই।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ভারতের উজানের পানিতে মুহুরী, কুহুয়া এবং সিলোনিয়া নদীর বাঁধ ভেঙে ফুলগাজী-পরশুরামের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়।
গতবছর ২০২৪ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া পাঁচটি বাঁধ এই বছর আবারও ভেঙে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাহাপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, প্রতিবছর বাঁধ ভাঙে আর মেরামত করে। এতে লাভবান হয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার কিন্তু আমরা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষেরা সর্বস্বান্ত হয়ে যাই।
উপজেলার পশ্চিম অলকা গ্রামের বোরহান উদ্দিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছরের ঠিকাদার দিয়ে মেরামত করেছেন কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, গত দুদিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানির বেড়ে যাওয়ায় তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। গতবারের বড় ভাঙনগুলো জিও টিউব দিয়ে মেরামত করা হয়েছে, তাই ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কম।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যায় ৪১টি স্থানে বাঁধ ভেঙে যায়। তার মধ্যে ৫ কোটি টাকা ব্যয় করে ৪০টি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনরায় মেরামত করা হয়েছে। পরশুরাম উপজেলার ডিএম সাহেবনগর এলাকায় একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত কাজ শুরু করলে ভারতীয় বিএসএফ বাধা দেওয়ায় সে বাঁধ মেরামত বন্ধ হয়ে যায়।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, চলতি বছরে জিও টিউব পদ্ধতিতে মেরামত করা হয়েছে। কতটুকু টেকসই হয়, সেটি এখন দেখার বিষয়।