Breaking News:


বুলগেরিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলো সরকার

  • ০২:৪১ পিএম, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
ছবি: রয়টার্স

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
দেশজুড়ে দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার দায়ে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে বুলগেরিয়ার সরকার।

বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর দেশটির প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ পদত্যাগের এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর জানিয়েছে।

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সবচেয়ে দরিদ্র এই দেশটিতে স্থানীয় সময় বুধবার সরকারবিরোধী ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করা হলেও পরে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমনে বুলগেরিয়া সরকার ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ তুলে রাজধানী সোফিয়া ছাড়াও কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বিভিন্ন শহর ও নগরে হাজার হাজার মানুষ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। দেশটিতে গত কয়েক দিন ধরেই টানা এই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা সোফিয়ার কেন্দ্রস্থলে পার্লামেন্ট ভবনে লেজার দিয়ে ‘‘পদত্যাগ’’, ‘‘মাফিয়া আউট’’ ও ‘‘সুষ্ঠু নির্বাচন চাই’’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছিলেন।

সোফিয়ার ৬৪ বছর বয়সী বাসিন্দা ডোব্রি লোকভ বলেন, আমি মনে করি জনগণের চাপ ক্রমান্বয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করবে। দেশে বহু বিষয়ে সংস্কার প্রয়োজন। প্রথমত বিচারব্যবস্থার সংস্কার। বিচারব্যবস্থা ঠিক হলে বাকিগুলোও নিজে থেকেই ঠিক হবে।

দফায় দফায় দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের জেরে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ ঘোষণা দিয়েছেন, তার সরকার পদত্যাগ করছে।

ক্ষমতায় আসার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে রক্ষণশীল রোসেনের সরকার পদত্যাগে বাধ্য হলো। ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের এক বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার আজ পদত্যাগ করছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে দেশটির সরকার প্রথমবারের মতো ইউরোতে প্রণীত ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা প্রকাশ করে। বাজেট পরিকল্পনা প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। দেশটির বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা খাতের অবদান এবং লভ্যাংশের ওপর কর বাড়িয়ে ব্যয় মেটানোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করতেই লোকজন রাস্তায় নেমেছে।

সরকার বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহার করলেও বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। দেশটিতে গত চার বছরে সাতটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা প্রকট আকার ধারণ করায় সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বুলগেরিয়ার আইটি পেশাজীবী অ্যাঞ্জেলিন বাহচেভানোভ বলেন, ‘বুলগেরিয়াকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর এখনই সময়। আমরা যেন অলিগার্কি, মাফিয়া ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হতে পারি।’

সূত্র: রয়টার্স

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech