কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীরা রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শুরু করেছেন। তাদের দাবি- তারা এখনো রিক্রুটিং এজেন্টদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত পাননি।
বুধবার ২২ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে অর্থ ফেরতসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় অবস্থান নেন তারা।
সকাল সকাল ৯টা থেকে তারা কারওয়ান বাজার মোড়ে অবস্থান নেন তারা। এসময় তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কাফনের কাপড় পরে সড়কে শুয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহন কারওয়ান বাজার মোড়ে আটকা পড়ে।
মালয়েশিয়াগামী এই শ্রমিকদের দাবি, গত ৩১ মে মালয়েশিয়া প্রবেশের শেষ সময় হলেও— এজেন্সি অজানা কারণে তাদের সে দেশে পাঠাতে পারেনি। এর মধ্যে একাধিকবার সরকারের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও অনেকেই টাকা ফেরত পায়নি। অভিযোগ জানানোর পরও এর কোনো সুরাহা হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।
আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাকা ফেরত চাওয়াসহ তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হচ্ছে– কর্মীদের সমস্যার সমাধান না করে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ রাখা, রিক্রুটিং এজেন্সির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা ট্রাভেল এজেন্ট, সাব এজেন্ট ও দালালদের অবিলম্বে গ্রেফতার।
মন্ত্রণালয় ও বিএমইটিতে অভিযোগ করার ৩-৪ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও নিষ্পত্তি না হওয়ার ব্যাখ্যা, দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় সরকারি কোনো ব্যাংকে জমা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিপূরণ আদায় করে না দিতে পারলে সরকারকে ব্যর্থতার দায়গ্রহণ এবং সরকারি খরচে প্রত্যেককে মালয়েশিয়া ছাড়া অন্য যেকোনো দেশে বিনাখরচে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
এভাবে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা যাবৎ তারা কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন তারা। এদিকে রাজধানীর ব্যস্ততম মোড় কারওয়ান বাজারে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেয়ায় প্রায় ২ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিস সময়ে আটকা পড়েন সকল অফিসগামীরা।
পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে একপ্রকার বাধ্য করেই রাস্তা থেকে উঠিয়ে দেয় পুলিশ। পুলিশ তাদের অনেকটা জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়। পরে মূল সড়কটিতে আবারও যান চলাচল শুরু হয়েছে। এসময় আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মাইন উদ্দীন বাবু বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই আমাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমাদের একেকজনের পরিবারের এমন অবস্থা যে, তারা এখন বাড়িতেও ফিরতে পারবে না। কিন্তু পুলিশ আমাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছে।
আমরা এখন এখান থেকে শাহবাগ যাব এবং সেখানে অবস্থান নিব। তবু আমরা দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবো।