।।বিকে রিপোর্ট।।
রাজধানীতে হঠাৎ মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
সোমবার ২৭ অক্টোবর সকাল ১০ টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেট্রো সর্ভিস পুরোপুরি চালু হয়নি। সকাল ১০ টায় দেখা গেছে সেখানে কাজ চলছে।
ফলে অফিসগামী মেট্রো যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়। সকাল ৮ টায় আগারগাঁও স্টেশনে দেখা যায় উত্তরা থেকে এসে নেমেছে হাজার হাজার যাত্রী। কিন্তু মতিঝিল যাওয়ার কোন সুবন্দোবস্ত নেই। মতিঝিল গামী সকল গাড়ী আগে থেকেই কানায় কানায় ভরে আসছে। ফলে সেখান থেকে উটতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
অনেকে নিরুপায় হয়ে ফার্মগেটের দিকে হেটেই রওনা দিয়েছেন। অনেকে পাঠাও বা বিকল্প পথে যাবার চেষ্টা করছেন।
নিয়মিত যাত্রী ওবায়দুল হক বলেন, এই ভোগান্তির কোন মানে নেই। মেট্রো কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল আগারগাঁও থেকে শাগবাগ বা মতিঝিল পর্যন্ত জরুরী শাটল সার্ভিস চালু করা। আমি ভাগ্যগুনে খালি পাঠাও পেয়েছি। কিন্তু দেখুন হাজার হাজার যাত্রী কি দূর্ভোগে আছেন।

উল্লেখ্য, রবিবার ২৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনের মেট্রো স্টেশনের ২৩০ নং পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে নিচে পড়ে যায়। বিয়ারিং প্যাডের আঘাতে পথচারীর মৃত্যুর পর ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দুপুর থেকে মেট্রোতে যাতায়াত করা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পরে গতকাল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত আশিংক চাল করা হয়। এবং পরে সন্ধ্য ৭ টা থেকে মতিঝিল থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আংশিক চালু করা হয়। সপ্তাহের প্রথম অফিস দিনে এমন ঘটনায় দুর্ভোগে পড়েন মেট্রোর নিয়মিত লাখ লাখ যাত্রী।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনার কারণে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো পথেই মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কখন চালু হবে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রসংগত এর আগে গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোরেলে একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে। সেদিনও আগারগাঁও থেকে মতিঝিলে পর্যন্ত ১১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। এ ঘটনায় বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয়বার বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ল রবিবার।
মেট্রোরেলের লাইনের নিচে উড়াল পথের পিলারের সঙ্গে রাবারের এসব বিয়ারিং প্যাড থাকে। এগুলোর প্রতিটির ওজন আনুমানিক ১৪০ বা ১৫০ কেজি। এসব বিয়ারিং প্যাড ছাড়া ট্রেন চালালে উড়াল পথ দেবে যাওয়া কিংবা স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্যই মেট্রোরেলের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে।