।।বিকে রিপোর্ট।।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় ও সরকার গঠনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দলীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি।
১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের উদ্যোগে এ সমাবেশ হবে। দুপুর আড়াইটায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কে এ সমাবেশে প্রধান অতিথি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শ্রমিক নেতাদের প্রত্যাশা; তারেক রহমান আগামী দিনের রাজনীতির দিক নির্দেশনামূলক বার্তা দেবেন শ্রমিক সমাবেশে।
সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষের সবচেয়ে গৌরবের দিন মে দিবস। এ উপলক্ষ্যে ঢাকায় শ্রমিক সমাবেশ করবেন তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাবেশে থাকবেন। সমাবেশে শ্রমিক আন্দোলনের শ্রমিকরা আসবেন।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে শ্রমিক সমাবেশে রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ, নরসিংদীর নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেবেন।
‘শ্রম দিয়ে শিল্প গড়বো, দেশের আঁধার ঘুচিয়ে দেবো’ স্লোগানে ১৯৭৯ সালের ১ মে এই শ্রমিক দল প্রতিষ্ঠা করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি আদায় আর উৎপাদন বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সংগঠনটি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১ মে-র শ্রমিক সমাবেশ সফল করতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক যোগ দেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমাবেশে অংশ নিতে রাজধানীর আশপাশের জেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানার ব্যানারে নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি আছে। শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গেও প্রস্তুতি সভা হচ্ছে দফায় দফায়। মূলত বড় ধরনের শোডাউনের পরিকল্পনা আছে। শ্রমিক দল ও সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদসহ অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলো সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি আদায় আর উৎপাদন বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি এখন অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর গ্রুপিংয়ে বিপর্যস্ত। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন শ্রমিকদলের নেতাকর্মী। এমনকি শ্রমিকদের দাবি আদায়েও কার্যত কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি সংগঠনটির নেতৃত্বের।
কেবল নামমাত্র কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দায় সারেন নেতারা। শ্রমিক দলের গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সঙ্গে বাস্তব কর্মকাণ্ডের তেমন কোনো সাদৃশ্যও নেই। তারপরও শ্রমিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা দাবিগুলোর মধ্যে থাকবেÑ কর্মস্থলে শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন; শ্রমিক হত্যার বিচার ও শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ করা; শিল্পকারখানায় আউটসোর্সিং বন্ধ করে স্থায়ী পদ সৃষ্টি; বন্ধ শিল্প চালু করা ও নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা; বৈষম্যহীন জাতীয় পে-স্কেল ও মজুরি হার ঘোষণা করা; জরুরি পরিষেবা আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল; নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করা; অবাধ ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত; সব প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার চালু এবং খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো।
সম্প্রতি এক যৌথসভা শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঢাকা শহরের যত শ্রমিক আছেন তাদের মধ্য থেকে একভাগ শ্রমিককেও আমরা সংগঠিত করতে পারিনি। আমরা যদি ২ ভাগ লোককে সংগঠিত করতে পারি, তাহলে আমাদের শ্রমিক সমাবেশ সফল হবে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, শ্রমিক দিবসটি শ্রমজীবী মানুষকে উদ্দীপ্ত করে। অধিকারহারা মানুষ মহান মে দিবসে উদ্দীপ্ত হয়। আমরা আশা করছি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পহেলা মে যে সমাবেশ, সেটি ঐতিহাসিক সমাবেশে পরিণত হবে।
শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু আমাদের সময়কে বলেন, ‘বড় সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো বৈঠক করছেন। সবার একটাই লক্ষ্য শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা। সমাবেশে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি।