Breaking News:


শিরোনাম :
এই নির্বাচন বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত: নুর ভোটের দিন এবং আগে ও পরে যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা: জরুরি সেবা আওতামুক্ত গোপালগঞ্জে জামায়াতের আমিরের পথসভা মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা : আ.লীগের ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা কোম্পানির ১৬.৩৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দেশেই ড্রোন নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমানবাহিনীর চুক্তি টেকনাফে পাহাড়ি এলাকা থেকে ছয় কৃষককে অপহরণ করল অস্ত্রধারীরা রাজধানীর আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মোসাদের সদর দপ্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

  • আপলোড টাইম : ১০:৫৮ এএম, বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫
  • ১০২ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেগুলোয় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর সদরদপ্তরে আগুন দেখা যাচ্ছে।

ইরানের রেভ্যলুউশনারি গার্ডকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থাটি বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে আক্রান্ত মোসাদ। সংবাদ সংস্থাটি টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে বলেছে, ‘সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স ফাইটাররা একটি কার্যকর অভিযানে সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্রে আঘাত করেছে।’

দূরপাল্লা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মোসাদের একটি ভবন ধসিয়ে দিয়েছে ইরানের প্রতিরোধ বাহিনী। তেহরানের দাবি, ওই ভবন গোপন অভিযানের পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যবহার করা হতো।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা পাঁচ দিন ধরে তেল আবিব যে অন্যায্য ও ঔদ্ধত্য আক্রমণ করছে, এরই জবাব হিসেবে তাদের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ওপর প্রত্যাঘাত করা হয়েছে।

ইসলামি বিপ্লবী বাহিনী দাবি করেছে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা কেন্দ্রেও এ দিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ইরানি হামলার আতঙ্কে বহু দেশ তাদের নাগরিকদের ইসরায়েলে না যাওয়ার এবং যারা সেখানে আছেন, তাদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

জেরুজালেমে নিজেদের দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, এই সংঘাতে গোপনে যারা উসকানি ও সামরিক মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির অনলাইনে সরাসরি প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান থেকে থেমে থেমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে তেল আবিব ও পশ্চিম জেরুজালেমে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এগুলোকে আকাশেই প্রতিহত করতে ব্যতিব্যস্ত ছিল। তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দর্প চূর্ণ করে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে কিছু স্থানে।

মোসাদ কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি। এ সব বিষয়ে সরকারি যে বিধিনিষেধ আছে তাতে ইসরায়েলের সংবাদ মাধ্যম কিছু নির্দিষ্ট স্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে পারে না।

আল জাজিরার অনলাইনে সরাসরি প্রচারিত প্রতিবেদন অনুসারে, গতকাল ইসরায়েলি বাহিনী পরোক্ষভাবে মোসাদের ভবনে হামলার কথা স্বীকার করেছে। কারণ তারা জানিয়েছে, ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবে এবং আরেকটি ১৬ কিলোমিটার দূরে হার্জলিয়ায় আঘাত হেনেছে। হার্জলিয়ায় একটি ‘সংবেদনশীল স্থাপনা’য় আঘাত হেনেছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র। আল জাজিরা বলছে, সামরিক কিংবা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বলতে এই ধরনের পরিভাষা ব্যবহার করে থাকে ইসরায়েল।

গত শুক্রবার ইরানের ওপর এক নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাসহ পরমাণু বিজ্ঞানী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিহত হন। তেহরান দাবি করেছে, হামলায় ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। এরপর শনিবার রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছিল ইসরায়েল ও ইরান। এতে উভয় দেশেই বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সেদিনই ইরান মোট ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলে। অন্তত ২২টি এলাকায় আঘাত হেনেছে এই মিসাইল ও ড্রোন। এখনো দুই পক্ষা পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।  দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।    

ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হতে দিতে চায় না ইসরায়েল। তাদের ভয়, পাছে পারমাণবিক বোমায় তছনছ হয়ে যায় ইহুদি রাষ্ট্রটি। কিন্তু ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে না বলে দাবি করে তেহরান। ফলে ভিত্তিহীন অনুমানের ওপর ভর করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সার্বভৌম দেশের ওপর সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে ইসরায়েল।

এরই মধ্যে তারা ইরানের সেনাপ্রধান এবং বিপ্লবী বাহিনীর প্রধানসহ শীর্ষ জেনারেলদের হত্যা করেছে। এই সংঘাত শুরুর পর সেনাপ্রধান নিহত হলে যিনি এই পদে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত আলী শাদমানিকেও গতকাল হত্যা করেছে ইসরায়েল। এমনকি তারা খামেনিকেও হত্যা করার কথা ভাবছে।

যুদ্ধবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হলে সংঘাতের শেষ হবে ও পারমাণবিক যুদ্ধ এড়ানো যাবে।’ আর তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ‘খামেনির পরিণতি হবে ইরাকের পতিত স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের মতো।’

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech