শিরোনাম :
বিশ্বনেতাদের সামনে ইরানকে ‌‘নরকে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ সামলাতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছর এক দিনে সর্বোচ্চ ১৮৭২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে, মৃত্যু ৫ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূলপর্ব শুরু আজ দূরপাল্লায় কিলোমিটারে ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী জন্মস্থানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সংকট মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিফলন ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলায় নিহত ৬

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান : জবাব ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন ট্রাম্প

  • ১০:৩৪ এএম, সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
ছবি: ফাইল ফটো

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যে জবাব পাঠিয়েছে ইরান— তা পছন্দ হয়নি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানের জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রবিবার ১০ মে (স্থানীয় সময়) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার এটা পছন্দ হয়নি— (ইরানের এই জবাব) সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

এরআগে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সেই খসড়ায় যুদ্ধ সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা এবং দেশটির ওপর জারি থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা গুলো তুলে নিতে একটি বিস্তৃত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ৩০ দিনের আলোচনা শুরুর মতো পয়েন্টগুলো উল্লেখ ছিলো।

আমেরিকার নতুন এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে গতকাল রবিবার যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে এ জবাব দেওয়া হয়েছে বলে বিবিসি, আল-জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরই তারা এর জবাব দেবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা লিখেছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আলোচনার এই পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হবে এই অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধ করা।

ইরানের সেই জবাব পাঠানোর কিছু সময় পর ট্রুথ সোশ্যালে এই পোস্ট দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জানা গেছে, খসড়া প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে লিখিত জবাবে ইরান এ ইস্যুটি এড়িয়ে সব ফ্রন্ট, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রভৃতি ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েছে।

এছাড়া লিখিত জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার কারণে সৃষ্ঠ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও দাবি করেছে ইরান।

তবে যেসব কারণে ইরানের জবাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভবত ইউরেনিয়াম ইস্যুটি। ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে, যার বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশ। ইরান যদি বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করে— তাহলে অনায়েসেই সেই ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর এক পারমাণবিক বোমা বানানো সম্ভব।

ট্রাম্প চেয়েছিলেন, ইরান যেন তার ইউরেনিয়ামের মজুত হয় ধ্বংস করে— নয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করে।

কিন্তু রবিবারের জবাবে তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে— ইউরেনিয়মের মোট মজুতের কিছু অংশের বিশুদ্ধতার মান কমিয়ে ইরানে রাখা হবে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন,ইরান কখনও শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না এবং অবশ্যই দৃঢ়ভাবে নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।

সূত্র : রয়টার্স/ আল জাজিরা।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech